গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা কে পিটিয়ে হত্যা করা সেই ভাতিজা গ্রেফতার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যেপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা কফিল উদ্দিন মাষ্টার (৬৫) কে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের ভাতিজা ইউপি সদস্য জলিল(৪৮) কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আজ(২৯ জুন) সোমবার সন্ধ্যা পনে ৬ টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

মামলার এজাহার ও তদন্তের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রামের নিহত কফিল উদ্দিনের সাথে পৈত্রিক ৬৬ শতক জমি নিয়ে শরিকদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও ফলপ্রসু হয়নি।

পরে ওই বিরোধপুর্ন জমিটি কফিল উদ্দিন স্থানীয় এক কৃষক কে বর্গা চাষের জন্য দেন। এরপর জমিতে ধান কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। বাধার কারন জানতে চাইলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন ও তার সহধর্মিণী জুলেখা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষক আতাউর রহমান কে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের কেও এলোপাথাড়ি মারপিট করে।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করতে এলে ঘটনাস্থলে বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন কে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহত বৃদ্ধ কফিল উদ্দিনের সহধর্মিণী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং. ০১।

গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা। র‌্যাব গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, বৃদ্ধ চাচা কে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পুর্ব মৌচাক বাজার এলাকায় আত্নগোপনে রয়েছে।

এই সুত্র ধরে সিপিসি-৩, র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প ও র‌্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের চৌকস সদস্যরা গতকাল রবিবার রাতে সেই স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আব্দুল জলিল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ছামছুল হকের ছেলে এবং ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেফতার আসামি কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা কে পিটিয়ে হত্যা করা সেই ভাতিজা গ্রেফতার

আপলোডের সময় : 01:41:41 am, Wednesday, 1 July 2026

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যেপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা কফিল উদ্দিন মাষ্টার (৬৫) কে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের ভাতিজা ইউপি সদস্য জলিল(৪৮) কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আজ(২৯ জুন) সোমবার সন্ধ্যা পনে ৬ টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

মামলার এজাহার ও তদন্তের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রামের নিহত কফিল উদ্দিনের সাথে পৈত্রিক ৬৬ শতক জমি নিয়ে শরিকদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও ফলপ্রসু হয়নি।

পরে ওই বিরোধপুর্ন জমিটি কফিল উদ্দিন স্থানীয় এক কৃষক কে বর্গা চাষের জন্য দেন। এরপর জমিতে ধান কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। বাধার কারন জানতে চাইলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন ও তার সহধর্মিণী জুলেখা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষক আতাউর রহমান কে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের কেও এলোপাথাড়ি মারপিট করে।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করতে এলে ঘটনাস্থলে বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন কে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এই নৃশংস ঘটনার পর নিহত বৃদ্ধ কফিল উদ্দিনের সহধর্মিণী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং. ০১।

গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা। র‌্যাব গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, বৃদ্ধ চাচা কে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পুর্ব মৌচাক বাজার এলাকায় আত্নগোপনে রয়েছে।

এই সুত্র ধরে সিপিসি-৩, র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প ও র‌্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের চৌকস সদস্যরা গতকাল রবিবার রাতে সেই স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আব্দুল জলিল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ছামছুল হকের ছেলে এবং ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেফতার আসামি কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।