মুরগির ছানা বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল ছয় বছরের ডেরেক

২০১৯ সালে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাং এলাকায় ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার এক মানবিক কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দুর্ঘটনাবশত নিজের সাইকেলের নিচে প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানা চাপা পড়লে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আহত ছানাটিকে বাঁচাতে সে দ্রুত সেটিকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং বাবার কাছে সাহায্য চায়।

ছেলের এমন আকুতি দেখে বাবা ধীরাজ ছেত্রী বিষয়টি হেসে উড়িয়ে না দিয়ে ডেরেককে বলেন, ছানাটিকে বাঁচানো যদি এতটাই জরুরি মনে হয়, তবে সে যেন নিজেই সেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাবার এই কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ডেরেক এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের জমানো মাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে তুলে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে সম্বল হিসেবে থাকা সেই ১০ রুপি নিয়ে সে কাছের একটি হাসপাতালের দিকে দৌড় দেয়।

হাসপাতালে পৌঁছে ডেরেক চিকিৎসকদের কাছে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য কাতর অনুরোধ জানায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছানাটি ততক্ষণে মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটির এই সরলতা দেখে অবাক হয়ে যান এবং তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। সে তার বাবাকে বলেছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

ডেরেকের এই মানবিকতার বিষয়টি দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তার এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের ঘটনাটি অনেকের নজর কাড়ে। পরে সাঙ্গা সেজ নামের একটি পক্ষ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। ডেরেকের এই দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ তার স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশংসাপত্র দেয় এবং ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

পরবর্তীতে প্রাণীকল্যাণ সংস্থা পেটা ইন্ডিয়া (PETA India) ডেরেকের এই মহানুভবতাকে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ প্রদান করে। একটি ছোট দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচাতে নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

মুরগির ছানা বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল ছয় বছরের ডেরেক

আপলোডের সময় : 02:50:13 pm, Monday, 24 August 2026

২০১৯ সালে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাং এলাকায় ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার এক মানবিক কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দুর্ঘটনাবশত নিজের সাইকেলের নিচে প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানা চাপা পড়লে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আহত ছানাটিকে বাঁচাতে সে দ্রুত সেটিকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং বাবার কাছে সাহায্য চায়।

ছেলের এমন আকুতি দেখে বাবা ধীরাজ ছেত্রী বিষয়টি হেসে উড়িয়ে না দিয়ে ডেরেককে বলেন, ছানাটিকে বাঁচানো যদি এতটাই জরুরি মনে হয়, তবে সে যেন নিজেই সেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাবার এই কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ডেরেক এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের জমানো মাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে তুলে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে সম্বল হিসেবে থাকা সেই ১০ রুপি নিয়ে সে কাছের একটি হাসপাতালের দিকে দৌড় দেয়।

হাসপাতালে পৌঁছে ডেরেক চিকিৎসকদের কাছে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য কাতর অনুরোধ জানায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছানাটি ততক্ষণে মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটির এই সরলতা দেখে অবাক হয়ে যান এবং তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। সে তার বাবাকে বলেছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

ডেরেকের এই মানবিকতার বিষয়টি দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তার এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের ঘটনাটি অনেকের নজর কাড়ে। পরে সাঙ্গা সেজ নামের একটি পক্ষ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। ডেরেকের এই দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ তার স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশংসাপত্র দেয় এবং ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

পরবর্তীতে প্রাণীকল্যাণ সংস্থা পেটা ইন্ডিয়া (PETA India) ডেরেকের এই মহানুভবতাকে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ প্রদান করে। একটি ছোট দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচাতে নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।