খুলনার ব্যস্ত সড়কে গরুর অবাধ বিচরণ: ভোগান্তিতে নগরবাসী, ঝুঁকিতে যান চলাচল

খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাতে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরালা, পিটিআই মোড়, বয়রা বাজার, খালিশপুর বিআইডিসি রোড, পাওয়ার হাউস মোড়, পিপলস গেট, প্লাটিনাম ২ নম্বর গেট, দৌলতপুর, টুটপাড়া, রেলিগেট, ফুলবাড়ীগেট ও আলমনগর মোড়সহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত গরুর পাল দেখা যাচ্ছে। এসব গরু কখনো সড়ক বিভাজকের গাছের চারা খেয়ে ফেলছে, আবার কখনো ফুটপাতে শুয়ে থাকছে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নিরালা এসটিএস এলাকায় ময়লার স্তূপ ঘিরে অন্তত ৪০টি গরুকে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর গরুগুলো দল বেঁধে সড়কে উঠে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গরুগুলো বেওয়ারিশ নয়, বরং মালিকেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এগুলোকে ছেড়ে রাখেন। নিরালা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, গরুগুলো দোকানের সামনে মলত্যাগ করায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। কাচ্চি নবাব রেস্তোরাঁর কর্মী মো. তুহিন সরদার জানান, দুর্গন্ধের কারণে তাঁরা নিজেরাই নিয়মিত জায়গাটি পরিষ্কার করতে বাধ্য হন। এছাড়া গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে পিটিআইয়ের প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাতেও বেশ কয়েকটি গরু অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

সড়কে যত্রতত্র গরু থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। রিকশাচালক আবদুস সালাম জানান, গরুগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই বিপাকে পড়েন। নিরালা তাবলিগ মসজিদের কাছে সম্প্রতি এক নারী শিক্ষক মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। একটি গরু হঠাৎ সামনে চলে আসায় সেটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি ও তাঁর স্বামী রক্তাক্ত জখম হন। ময়লা সংগ্রহকারী আকবর আলী জানান, গত রোববার একটি গরু গুঁতিয়ে তাঁর ময়লা ফেলার গাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলেছে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, মহসিন নামের এক ব্যক্তির ৪-৫টি, মোহাম্মদ উজ্জ্বলের ৩০-৩৫টি এবং সাজিদ নামের আরেক ব্যক্তির গরু নিয়মিত সড়কে দেখা যায়। পিটিআই মোড়ে দেখা যাওয়া গরুগুলোর বেশির ভাগই টুটপাড়া ক্রস রোডের ২ নম্বর বালুর মাঠ-দারোগা বস্তি এলাকার বাসিন্দা নীলুর। তবে অভিযুক্ত মালিক মোহাম্মদ উজ্জ্বল দাবি করেন, তিনি এখন আর সারা দিন গরু ছাড়েন না। তাঁর ভাষ্যমতে, গোয়াল পরিষ্কারের জন্য সকালবেলা অল্প সময়ের জন্য গরু বের করা হয় এবং অন্য কারো গরু থাকলেও দোষ তাঁর ওপর চাপানো হয়।

এই সমস্যা সমাধানে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সম্প্রতি মালিকদের সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা গাছ গবাদিপশুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় গবাদিপশু শুয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। কেসিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এরপর থেকে ছেড়ে রাখা গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেসিসির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা পেরু গোপাল বিশ্বাস জানান, তাঁরা মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। গত ২৯ জুলাই সড়কে গরু ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৬ জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নগরবাসীর দাবি, কেবল নোটিশ নয়, বরং নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

খুলনার ব্যস্ত সড়কে গরুর অবাধ বিচরণ: ভোগান্তিতে নগরবাসী, ঝুঁকিতে যান চলাচল

আপলোডের সময় : 10:44:56 am, Saturday, 29 August 2026

খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাতে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরালা, পিটিআই মোড়, বয়রা বাজার, খালিশপুর বিআইডিসি রোড, পাওয়ার হাউস মোড়, পিপলস গেট, প্লাটিনাম ২ নম্বর গেট, দৌলতপুর, টুটপাড়া, রেলিগেট, ফুলবাড়ীগেট ও আলমনগর মোড়সহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত গরুর পাল দেখা যাচ্ছে। এসব গরু কখনো সড়ক বিভাজকের গাছের চারা খেয়ে ফেলছে, আবার কখনো ফুটপাতে শুয়ে থাকছে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নিরালা এসটিএস এলাকায় ময়লার স্তূপ ঘিরে অন্তত ৪০টি গরুকে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর গরুগুলো দল বেঁধে সড়কে উঠে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গরুগুলো বেওয়ারিশ নয়, বরং মালিকেরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এগুলোকে ছেড়ে রাখেন। নিরালা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, গরুগুলো দোকানের সামনে মলত্যাগ করায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। কাচ্চি নবাব রেস্তোরাঁর কর্মী মো. তুহিন সরদার জানান, দুর্গন্ধের কারণে তাঁরা নিজেরাই নিয়মিত জায়গাটি পরিষ্কার করতে বাধ্য হন। এছাড়া গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে পিটিআইয়ের প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাতেও বেশ কয়েকটি গরু অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

সড়কে যত্রতত্র গরু থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। রিকশাচালক আবদুস সালাম জানান, গরুগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় রিকশা ও মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই বিপাকে পড়েন। নিরালা তাবলিগ মসজিদের কাছে সম্প্রতি এক নারী শিক্ষক মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। একটি গরু হঠাৎ সামনে চলে আসায় সেটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি ও তাঁর স্বামী রক্তাক্ত জখম হন। ময়লা সংগ্রহকারী আকবর আলী জানান, গত রোববার একটি গরু গুঁতিয়ে তাঁর ময়লা ফেলার গাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলেছে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, মহসিন নামের এক ব্যক্তির ৪-৫টি, মোহাম্মদ উজ্জ্বলের ৩০-৩৫টি এবং সাজিদ নামের আরেক ব্যক্তির গরু নিয়মিত সড়কে দেখা যায়। পিটিআই মোড়ে দেখা যাওয়া গরুগুলোর বেশির ভাগই টুটপাড়া ক্রস রোডের ২ নম্বর বালুর মাঠ-দারোগা বস্তি এলাকার বাসিন্দা নীলুর। তবে অভিযুক্ত মালিক মোহাম্মদ উজ্জ্বল দাবি করেন, তিনি এখন আর সারা দিন গরু ছাড়েন না। তাঁর ভাষ্যমতে, গোয়াল পরিষ্কারের জন্য সকালবেলা অল্প সময়ের জন্য গরু বের করা হয় এবং অন্য কারো গরু থাকলেও দোষ তাঁর ওপর চাপানো হয়।

এই সমস্যা সমাধানে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সম্প্রতি মালিকদের সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা গাছ গবাদিপশুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় গবাদিপশু শুয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। কেসিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এরপর থেকে ছেড়ে রাখা গবাদিপশু খোঁয়াড়ে আটকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেসিসির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা পেরু গোপাল বিশ্বাস জানান, তাঁরা মালিকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। গত ২৯ জুলাই সড়কে গরু ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৬ জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নগরবাসীর দাবি, কেবল নোটিশ নয়, বরং নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।