
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, রোববার দিনের শুরুতে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সদস্যরা হরমুজ প্রণালিতে সাগরে মাইন স্থাপনে সক্ষম রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই দ্বীপে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। ইরানি বাহিনীর দাবি, এই হামলায় বেশ কয়েকজন সামরিক সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন।
মার্কিন এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরান বলেছে, লারাক দ্বীপে এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব ও শাস্তি’ দেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি নতুন করে মাইন পাতার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেই হুঁশিয়ারির রেশ ধরেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই মাসের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই মার্কিন বাহিনীর প্রথম কোনো হামলার ঘটনা।
এদিকে, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ঐক্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খামেনি আরও বলেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড, তা জেনে বা না জেনে, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে করা হলেও, তা ইসলামের শত্রুদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করে। তিনি মুসলিম দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, তোমাদের প্রকৃত শত্রুকে চিনে নাও, তাদের পরিকল্পনা বোঝো এবং সাহসের সঙ্গে তার মোকাবিলা করো। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।