সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে এবার দেবী দুর্গার প্রতিমা সাজানো হচ্ছে এক অনন্য শৈলীতে। মাটির তৈরি প্রতিমার ওপর নিপুণ হাতে বসানো হচ্ছে দেড় লাখেরও বেশি দেশলাই কাঠি। কাঠির ফাঁকে ফাঁকে রেশমি সুতার ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শাড়ির কুঁচি ও অলংকারের নকশা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কাপড়ের ভাঁজ, কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়ে দেশলাই কাঠির নিখুঁত কারুকাজ।

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিন বছর আগে ভারতের একটি মন্দিরে এমন কাজের ধারণা পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এবার সাতক্ষীরায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা; অনেক সময় রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্তও কাজ করতে হচ্ছে তাদের। একটি কাঠি সামান্য এদিক-ওদিক হলেই নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আয়োজক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, এই প্রতিমা তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবারের পূজার আয়োজনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত বছর এই মন্দিরে ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল পূজা উদ্‌যাপন কমিটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও আকর্ষণীয় কিছু করার পরিকল্পনা থেকে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল।

স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা রানীসহ অনেকেই প্রতিদিন মন্দিরে ভিড় করছেন প্রতিমার কাজ দেখার জন্য। গতবারের মতো এবারও দর্শনার্থীরা এই শৈল্পিক কাজ দেখে মুগ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা। সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, দেশলাই কাঠি দিয়ে দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারে যে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আশা করছেন, এবারও সাতক্ষীরার বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এই প্রতিমা দেখতে ভিড় করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রহ্মরাজপুরে নতুন কিছু দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন এবারই প্রথম নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫০ হাজারের বেশি ধান দিয়ে গড়া দুর্গা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি, গচ্চা ১৭ কোটি টাকা

Verified by MonsterInsights

সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী দুর্গাপ্রতিমা

আপলোডের সময় : 01:27:47 pm, Monday, 31 August 2026

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে এবার দেবী দুর্গার প্রতিমা সাজানো হচ্ছে এক অনন্য শৈলীতে। মাটির তৈরি প্রতিমার ওপর নিপুণ হাতে বসানো হচ্ছে দেড় লাখেরও বেশি দেশলাই কাঠি। কাঠির ফাঁকে ফাঁকে রেশমি সুতার ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে শাড়ির কুঁচি ও অলংকারের নকশা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কাপড়ের ভাঁজ, কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়ে দেশলাই কাঠির নিখুঁত কারুকাজ।

প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, তিন বছর আগে ভারতের একটি মন্দিরে এমন কাজের ধারণা পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এবার সাতক্ষীরায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা; অনেক সময় রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্তও কাজ করতে হচ্ছে তাদের। একটি কাঠি সামান্য এদিক-ওদিক হলেই নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আয়োজক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, এই প্রতিমা তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবারের পূজার আয়োজনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত বছর এই মন্দিরে ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল পূজা উদ্‌যাপন কমিটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও আকর্ষণীয় কিছু করার পরিকল্পনা থেকে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল।

স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা রানীসহ অনেকেই প্রতিদিন মন্দিরে ভিড় করছেন প্রতিমার কাজ দেখার জন্য। গতবারের মতো এবারও দর্শনার্থীরা এই শৈল্পিক কাজ দেখে মুগ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা। সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, দেশলাই কাঠি দিয়ে দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারে যে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আশা করছেন, এবারও সাতক্ষীরার বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এই প্রতিমা দেখতে ভিড় করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রহ্মরাজপুরে নতুন কিছু দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন এবারই প্রথম নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫০ হাজারের বেশি ধান দিয়ে গড়া দুর্গা।