সিডনিতে বন্দুক হামলার ঘটনায় বন্ধুর সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক বন্দুক হামলার ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে একজন সাহসী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্ধুর দুই ছোট মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। বুধবার বিকেলে মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ম্যাকডোনাল্ড সেই সময় তার বন্ধু নিক ব্রাউন ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গুলি শুরু হওয়ার মুহূর্তে তিনি শিশুদের সামনে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েন।

তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি করা ধূসর রঙের অডি গাড়িতে করে আসা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে অতর্কিতে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এসেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যদিও যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে, তবুও পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ম্যাকডোনাল্ড নিজে কোনো সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুরো বিষয়টি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ম্যাকডোনাল্ডের বন্ধু নিক ব্রাউন তার পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় তাকে নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্বজনদের মতে, তার শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার এক মানবিক প্রচেষ্টা। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাকডোনাল্ডের খালা ডার্লিন নর্টন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, আগে থেকে টহল বাড়ানো হলে হয়তো এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো।

এই ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে, ৩১ আগস্ট ভোরে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি হামলা ঘটে। সেখানে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। সেই ঘটনাটিও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পরপর দুটি ঘটনায় সিডনিতে গ্যাং সহিংসতার বিস্তার নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছেন।

নিহত ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনরা তাকে একজন পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তার খালা জানান, মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি তার জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়। ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

সিডনিতে বন্দুক হামলার ঘটনায় বন্ধুর সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি

আপলোডের সময় : 11:16:59 am, Saturday, 5 September 2026

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক বন্দুক হামলার ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে একজন সাহসী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্ধুর দুই ছোট মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। বুধবার বিকেলে মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ম্যাকডোনাল্ড সেই সময় তার বন্ধু নিক ব্রাউন ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গুলি শুরু হওয়ার মুহূর্তে তিনি শিশুদের সামনে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েন।

তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি করা ধূসর রঙের অডি গাড়িতে করে আসা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে অতর্কিতে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এসেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যদিও যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে, তবুও পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ম্যাকডোনাল্ড নিজে কোনো সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুরো বিষয়টি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ম্যাকডোনাল্ডের বন্ধু নিক ব্রাউন তার পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় তাকে নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্বজনদের মতে, তার শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার এক মানবিক প্রচেষ্টা। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাকডোনাল্ডের খালা ডার্লিন নর্টন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, আগে থেকে টহল বাড়ানো হলে হয়তো এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো।

এই ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে, ৩১ আগস্ট ভোরে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি হামলা ঘটে। সেখানে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। সেই ঘটনাটিও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পরপর দুটি ঘটনায় সিডনিতে গ্যাং সহিংসতার বিস্তার নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছেন।

নিহত ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনরা তাকে একজন পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তার খালা জানান, মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি তার জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়। ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না।