
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার রাতে সংঘটিত এই সংঘর্ষের জেরে গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড় এলাকায় পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
এই সংঘর্ষের নেপথ্যে পূর্ববর্তী কোনো বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রোববার সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়েছিল। সেই রেশ ধরেই রাতে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শইমী ইমতিয়াজ নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 























