
কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে ভোরের ফোটার আগেই শুরু হয় ফাতেমা আক্তার ও মো. মান্নানের নিবিড় প্রস্তুতি। সুইমিং স্যুট পরে সার্ফিং বোর্ড বগলে নিয়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করা এই দুই তরুণের কসরত এখন স্থানীয় পর্যটকদের কাছে পরিচিত দৃশ্য। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তাঁরা, যা দেশের সার্ফিং ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার মহেশখালীর এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সার্ফিং শুরু করার পর সামাজিক নানা কটূক্তি ও পরিবারের সংশয় তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। ফাতেমা জানান, সার্ফিংয়ের প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে একবার সাত দিনের জন্য অনুশীলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরে কোচ রাশেদ আলম তাঁর মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হন। বর্তমানে নিজের লক্ষ্যে অটুট ফাতেমা বিশ্বমঞ্চে নারীদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান।
অন্যদিকে মান্নানের সংগ্রামী জীবন লড়াইয়ের অনন্য এক উদাহরণ। শৈশবে মাকে হারানো মান্নানের বাবার পেশা ভাঙারি ব্যবসা। সংসারের আর্থিক অনটনের কারণে দিনে সার্ফিং অনুশীলনের পর রাতে সৈকতে ঝিনুকের মালা বিক্রি করেন তিনি। মান্নান জানান, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বলেই আজ এশিয়ান গেমসে জায়গা করে নিতে পেরেছেন।
কোচ রাশেদ আলম মনে করেন, মান্নান ও ফাতেমার মধ্যে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখানোর মতো প্রতিভা আছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব রয়েছে। কোচের মতে, জাপানের সমুদ্রের ঢেউ কক্সবাজারের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও টেকনিক্যাল। প্রতিযোগিতায় ভালো ফল পেতে শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া বা বালির মতো স্থানে উন্নত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করা জরুরি ছিল, যা সম্ভব হয়নি।
বাজেট-স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) এবার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও প্রশিক্ষক সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, ২১ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন দুই সার্ফার এবং তাদের সঙ্গে মাত্র একজন অফিশিয়াল। সেই ব্যক্তিই কোচ, ম্যানেজার ও কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। আলাদা কোনো টেকনিক্যাল টিম না থাকায় ফাতেমা ও মান্নান কিছুটা উদ্বিগ্ন, কারণ বড় প্রতিযোগিতায় ভুল সংশোধনের জন্য কোচের উপস্থিতি অপরিহার্য।
২০২৬ সালের জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মান্নান ও ফাতেমা এশিয়ান গেমসের জন্য নির্বাচিত হন। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ মোট ২৩টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে। কক্সবাজারের সমুদ্রতটে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বর্তমানে তাঁদের শেষ মুহূর্তের প্রশিক্ষণ চলছে। সমস্ত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাপানের মাটিতে দেশের সম্মান রক্ষাই এখন এই দুই অ্যাথলেটের একমাত্র স্বপ্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবে ভোরের সূর্য উঁকি দিয়েছে পুব দিগন্তে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানিতে সার্ফবোর্ড ভাসিয়ে জলক্রীড়ায় মেতে ওঠা দুই সার্ফারের কসরত দেখতে অল্প সময়ে ভিড় জমে ওঠে ভোরের সৈকতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লাবণী পয়েন্ট সৈকতের পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে সার্ফার ফাতেমা আক্তার (১৬) ও মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সার্ফিং গুরু ও কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে নিজেদের প্রস্তুত করছেন তাঁরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দুই সার্ফার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ এশিয়ান গেমসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সব প্রতিকূলতা, বাজেট-স্বল্পতা, সামাজিক বাধা এবং অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের পরও ফাতেমা ও মান্নানের চোখেমুখে আশার আলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারের সৈকতে যে ঘাম তাঁরা ঝরাচ্ছেন, তার সুফল যেন জাপানের মাটিতেও দেখা মেলে—এটাই এখন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের একমাত্র প্রত্যাশা।’।
প্রতিনিধির নাম 

























