
‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং অন ইউ’ কিংবা ‘থার্টি নাইন’-এর মতো জনপ্রিয় সব রোমান্টিক চরিত্রে কাজ করার পর সন ইয়ে-জিনকে এবার দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। জোসন যুগের পটভূমিতে নির্মিত নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘দ্য স্ক্যান্ডাল’-এ তিনি এমন এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া আট পর্বের এই সিরিজে প্রেম, ক্ষমতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর পর কোনো টেলিভিশন সিরিজে ফিরলেন এই তারকা, যা ভক্তদের মাঝে দারুণ আগ্রহ তৈরি করেছে।
২০২২ সালের ‘থার্টি নাইন’-এর পর পর্দায় নিয়মিত ছিলেন না সন ইয়ে-জিন। এই দীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহাসিক ঘরানার এই সিরিজের মাধ্যমে তাঁর ফিরে আসাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, চরিত্রটি তাঁকে শুরু থেকেই ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। বিশেষ করে তৎকালীন সমাজের কঠোর বিধিনিষেধের আড়ালে মানবিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের বিষয়টি তাঁর কাছে অভিনয়ের এক অনন্য চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে। তাঁর মতে, নিজের বয়স ও দীর্ঘ অভিনয়-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তিনি এই জটিল চরিত্রের আবেগগুলোকে রূপ দিতে পেরেছেন।
সিরিজের মূল আকর্ষণ ‘চো’ নামের চরিত্রটি। এই নারী চরিত্রটি একদিকে যেমন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও আত্মসচেতন, অন্যদিকে তিনি নিজের ইচ্ছা সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট। নেটফ্লিক্সের বর্ণনা অনুযায়ী, চো এমন একজন নারী যাঁর মানসিক শক্তি গৃহকোণের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তৃত। বাইরে থেকে তাঁকে সম্ভ্রান্ত ও শান্ত দেখালেও, ভেতরে তিনি অত্যন্ত জটিল এক ব্যক্তিত্ব। সন ইয়ে-জিন জানিয়েছেন, এই চরিত্রের দ্বৈততা ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁকে পরিচালকের সঙ্গে বারবার আলোচনায় বসতে হয়েছে। প্রতিটি দৃশ্য চিত্রায়ণের আগে যেন তাঁকে নতুন করে ‘হোমওয়ার্ক’ করতে হতো।
‘দ্য স্ক্যান্ডাল’ পুরোপুরি মৌলিক কোনো গল্প নয়। সিরিজটি ২০০৩ সালের জনপ্রিয় কোরিয়ান সিনেমা ‘আনটোল্ড স্ক্যান্ডাল’-এর নতুন সংস্করণ। উল্লেখ্য যে, সেই সিনেমাটি আবার অনুপ্রাণিত হয়েছিল ফরাসি লেখক পিয়ের শোদারলো দ্য লাক্লোর ১৭৮২ সালের বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য ডেঞ্জারাস লিয়াজোঁ’ থেকে। তবে নির্মাতারা শুধু পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি করেননি, বরং ২০২৬ সালের দর্শকের উপযোগী করে চরিত্র ও সম্পর্কের নতুন বিন্যাস তৈরি করেছেন। পরিচালক জং জি-উ জানিয়েছেন, মূল উপন্যাসের নির্যাস নিয়েই এই নতুন নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জোসন যুগের সামাজিক কাঠামোতে নারীর ইচ্ছার কোনো স্থান ছিল না বললেই চলে। সেই রূঢ় বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে চো কীভাবে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তা এই সিরিজের অন্যতম উপজীব্য। সিরিজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দৃশ্যসজ্জা ও পোশাক। বিশেষ করে সন ইয়ে-জিনের পরিহিত ‘হানবক’ কেবল ঐতিহাসিক পোশাক নয়, বরং চরিত্রের মনের অবস্থা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পরিচালক জানান, চোর আকাঙ্ক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রঙেও তার প্রভাব পড়েছে। সন ইয়ে-জিনও এই পোশাকের সৌন্দর্য ও এর পেছনে থাকা শৈল্পিক শ্রমের প্রশংসা করেছেন, যদিও ভারী গয়না ও চুলের সাজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অভিনয় করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
সিরিজে সন ইয়ে-জিনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন জি চ্যাং-উক ও নানা। গল্পের নতুন মোড় আসে যখন অভিজ্ঞ চো ওয়নের সংস্পর্শে আসে অনভিজ্ঞ হুই-ইয়ন। এতে গল্পটি কেবল ত্রিমাত্রিক প্রেমের মোড়কে আটকে না থেকে সামাজিক নিয়ম ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার দ্বন্দ্বকে প্রকট করে তোলে। প্রতিটি দৃশ্যের ভেতর প্রবেশের জন্য সন ইয়ে-জিনকে চিত্রনাট্যের গভীরে ডুব দিতে হয়েছে। চরিত্রের প্রতিটি আবেগ ও আচরণের যৌক্তিক কারণ খুঁজে বের করাই ছিল তাঁর জন্য প্রধান পরীক্ষা।
মুক্তির পরপরই সিরিজটি দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘ চার বছর পর ছোট পর্দায় সন ইয়ে-জিনের এমন সাহসী প্রত্যাবর্তন ও চরিত্র নির্বাচনের দক্ষতা নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে এখন জোর চর্চা চলছে। নেটফ্লিক্সের প্ল্যাটফর্মে এই নতুন ওটিটি সিরিজটি দর্শকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে নারী ও সমাজের সম্পর্কের বিষয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই দ্বৈততাই চরিত্রটিকে সন ইয়ে-জিনের জন্য কঠিন করে তুলেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৬ সালের দর্শকের চোখ দিয়ে চরিত্র ও সম্পর্কগুলোকে নতুনভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চো ওয়নের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর সামনে নতুন এক জগৎ খুলে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যৌনতা, ব্যক্তিজীবন ও বিতর্ক—ওটিটিতে দর্শকের মনোযোগের নতুন অস্ত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চরিত্রটির মুখের শান্ত অভিব্যক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্য রকম হিসাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কখনো চোর আচরণের অর্থ খুঁজেছেন চিত্রনাট্যে, কখনো পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর মতে, চরিত্রটির ভেতরে একাধিক আবেগের স্তর থাকায় অভিনয়ের প্রস্তুতিও ছিল ধারাবাহিকভাবে ভাবনার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেটফ্লিক্সডটকম, কোরিয়া টাইমস ও আইএমডিবি অবলম্বনে।
প্রতিনিধির নাম 

























