
ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইসগেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা ড্রামবন্দী মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে এবং নগরের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় যৌথ মালিকানায় একটি জুয়েলারি ব্যবসা করতেন। নিহতের স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর ও ছেলে জয় সূত্রধর মরদেহ শনাক্ত করেছেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া মরদেহের প্যান্টের পকেটে ‘ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’-এর একটি টোকেন পাওয়া যায়। এই টোকেনটি দেখেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সহায়তায় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হতে সক্ষম হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, নিরঞ্জন চন্দ্র এর আগেও কয়েকবার ঘর থেকে বেরিয়ে কয়েক দিন পর ফিরে এসেছিলেন। এবারও পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি কোথাও গেছেন, তাই নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি বা কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। গত ২০ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর এক ভাতিজা তাঁকে সর্বশেষ দেখেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে বেগুনবাড়ি এলাকার স্লুইসগেটের কাছে পানিতে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রামটি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে হত্যার পর মরদেহ ড্রামে ভরে পানিতে ফেলে দিয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনার কারণ উদঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নিরঞ্জন চন্দ্রকে কারা ও কী কারণে হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্লুইসগেটের নিচে পানিতে ভাসছিল প্লাস্টিকের ড্রাম, ভেতরে ছিল অর্ধগলিত মরদেহ।
প্রতিনিধির নাম 

























