অজয় দেবগনের বাংলোর নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ বিএমসির

বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত বাংলো নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলোর একটি নির্দিষ্ট অংশে স্যালোঁ ও স্পা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ঘিরে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাংলোর ওই অংশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান চালু হলে এলাকায় মানুষের যাতায়াত ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এতে বিশেষ করে পার্কিং সমস্যা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শব্দদূষণের মতো নাগরিক বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। সরু রাস্তার এলাকায় এই অতিরিক্ত চাপ নিয়ে বাসিন্দারা শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে। বিএমসির কে-ওয়েস্ট ওয়ার্ডের বিল্ডিং অ্যান্ড ফ্যাক্টরিজ বিভাগ থেকে পাঠানো এক নোটিশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও নথিপত্র মালিকপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্দেশনার পর আপাতত ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় করপোরেটর সুধা সিং জানিয়েছেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় বিএমসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, এই জটিলতার মাঝে দেবগন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, স্যালোঁ ও স্পা তৈরির জন্য যে ধরনের সরকারি অনুমতি ও অনুমোদন প্রয়োজন, তার সবই যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়ে এসে বিএমসি মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের বৈধতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, এই বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশের জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তিনামা করা হয়েছিল। সেই চুক্তির প্রথম বছরের জন্য মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১৬ লাখ রুপি, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে বিএমসিতে জমা দেওয়া নথিপত্রের বৈধতার ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার প্রশাসনিক কড়াকড়ি বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

অজয় দেবগনের বাংলোর নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ বিএমসির

আপলোডের সময় : 09:51:32 am, Saturday, 26 September 2026

বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনের মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত বাংলো নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলোর একটি নির্দিষ্ট অংশে স্যালোঁ ও স্পা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ঘিরে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাংলোর ওই অংশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান চালু হলে এলাকায় মানুষের যাতায়াত ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এতে বিশেষ করে পার্কিং সমস্যা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শব্দদূষণের মতো নাগরিক বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। সরু রাস্তার এলাকায় এই অতিরিক্ত চাপ নিয়ে বাসিন্দারা শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে। বিএমসির কে-ওয়েস্ট ওয়ার্ডের বিল্ডিং অ্যান্ড ফ্যাক্টরিজ বিভাগ থেকে পাঠানো এক নোটিশে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও নথিপত্র মালিকপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্দেশনার পর আপাতত ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় করপোরেটর সুধা সিং জানিয়েছেন, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় বিএমসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, এই জটিলতার মাঝে দেবগন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, স্যালোঁ ও স্পা তৈরির জন্য যে ধরনের সরকারি অনুমতি ও অনুমোদন প্রয়োজন, তার সবই যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়ে এসে বিএমসি মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের বৈধতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, এই বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশের জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তিনামা করা হয়েছিল। সেই চুক্তির প্রথম বছরের জন্য মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১৬ লাখ রুপি, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে বিএমসিতে জমা দেওয়া নথিপত্রের বৈধতার ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার প্রশাসনিক কড়াকড়ি বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।