
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে শুধুমাত্র সদস্যদের আইনের আওতায় আনাই যথেষ্ট নয়, বরং এই অপরাধী চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসআরবি-২ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সমস্যার কোনো শর্টকাট সমাধান নেই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমেই প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শর্টকাট সমাধান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। নায়মুল হাসান বলেন, আরমান বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও ঢাকাতেই অবস্থান করছিল। এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরমান-শাহরুখ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করে এসআরবি-২। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে ঢাকাতেই আত্মগোপনে ছিল।
আরমানের গ্রেপ্তারের পর তার কাছে একটি সামুরাই এবং পরে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার একটি টিনশেড থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করেছে বাহিনীটি। এই মামলার অপর আসামি শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেফতারে বর্তমানে অভিযান চলমান রয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে এবং অতীতে সে বহুবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েছে। প্রতিবারই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা এই অপরাধী যেন এবার কোনোভাবেই পার না পায়, সেই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান। এসব গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্যাং কালচার নির্মূলের কৌশলের বিষয়ে তিনি জানান, এই গ্রুপগুলোর প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া অপরাধের পেছনের মূল কারণ ও চক্রগুলোর কার্যপ্রকৃতি নিয়ে বাহিনীটির গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল নিবিড়ভাবে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই এই গবেষণার ভিত্তিতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎস নির্মূলে একটি বিস্তৃত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে বলা হয়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ সশস্ত্র ব্যক্তিরা ফরহাদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন, যার ভিত্তিতেই এই জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 






















