
ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের গোল করতে লেগেছিল ১০৪ সেকেন্ড। তবে সেভিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নতুন রেকর্ডে সময় লেগেছে আরও কম—মাত্র ৭০ সেকেন্ড। ম্যাচের শুরুতে এই দ্রুততম গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের ১০৬ বছরের জাতীয় ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে গোল করার নজির গড়ল দলটি। পরে ৬৩ মিনিটে আরও একটি গোল করে নিজের নৈপুণ্য আরও উজ্জ্বল করেন ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতে ৩৫ ম্যাচ খেলে এখন তাঁর গোলসংখ্যা ১০টি। সেই ৭০ সেকেন্ডের গোলটি ছিল বিশেষ, কারণ স্পেন ২৫টি পাস খেলে গোলটি সম্পন্ন করে, যে সময়ে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া বল স্পর্শ করার সুযোগই পায়নি। ওয়েম্বলিতে আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের জালে স্পেন গোল করেছিল ১০৪ সেকেন্ডে। সেখানে ক্রোয়াটদের জালে ইয়ামালের ওই প্রথম গোলটির কল্যাণে দারুণ এক রেকর্ড গড়ে স্পেন। তবে এই গোলগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার জালে ইয়ামালের প্রথম গোলের মহিমা একটু অন্য রকম। ৭০ সেকেন্ডে করা সেই গোলে মোট ২৫ পাস খেলেছে স্পেন, ক্রোয়েশিয়া তখনো বলই ছুঁতে পারেনি। সেভিয়ায় সেটারই সুযোগ নিয়েছেন এই স্পেন তারকা। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপারের বাঁ দিকে পোস্টের মাঝে জায়গা খুব কম ছিল।
ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচ ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে অসহায় ছিলেন। বার্সেলোনায় লিভাকোভিচের সতীর্থ হিসেবে অনুশীলনে নিয়মিত অংশ নেওয়ায় ইয়ামাল তাঁর দুর্বলতা ও ডাইভ দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে জানতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, অনুশীলনের সেই পরিচিত কৌশলেই তিনি গোলটি করেছেন। গত আগস্টে কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইয়ামালের সঙ্গে অনুশীলন করছেন লিভাকোভিচ।
নেশনস লিগের এই ম্যাচে ৪-১ গোলের জয়ে স্পেন ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৪০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়েছে। মাত্র ১৯ বছর ৭৮ দিন বয়সী ইয়ামাল এদিন জোড়া গোল ছাড়াও মার্ক পুবিলকে দিয়ে আরও একটি গোল করিয়েছেন। স্পেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে, যা আগে ছিল রাউল গঞ্জালেসের (২১ বছর ২৭৩ দিন) নামে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য বর্ষসেরার অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ইয়ামাল অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয় ও সমর্থকই তাঁর কাছে বড় অনুপ্রেরণা। ইয়ামালের ভাষ্যমতে, তিনি শুধুমাত্র পুরস্কারের জন্য মাঠে নামেন না, বরং নিজের খেলা উপভোগ করা এবং সমর্থকদের আনন্দ দেওয়াতেই তাঁর আনন্দ। গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর পথে ৪১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখা (২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট) ইয়ামাল এবারের শিরোপা জয়েও অন্যতম দাবিদার।
নিজের বর্তমান ফর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ইয়ামাল জানিয়েছেন, তিনি ভোটের ফলের দিকে না তাকিয়ে কেবল খেলা চালিয়ে যেতে চান। সর্বশেষ ৮ ম্যাচে ১১ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে মোট ১৮ গোলে অবদান রেখে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর শিষ্য সম্পর্কে বলেন, লামিনে প্রতিটি ম্যাচেই বিশ্বকে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে এবং সে দলের জন্য অপরিহার্য এক জাদুকরি পারফর্মার। তাতে ক্রোয়াট এই গোলকিপারের শক্তি, দুর্বলতা এবং সাধারণত কোন দিকে ডাইভ দেন—সেসবের সবকিছুই জেনে গেছেন ইয়ামাল।
প্রতিনিধির নাম 

























