
পর্তুগাল দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে জাতীয় দলে ফেরা বা না ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদোকে শুরুতে নামানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানোর পরই ক্যাম্প ছাড়েন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনা
গতকাল রাতে নরওয়েকে ২–১ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’ জেসুস স্পষ্ট করেছেন, রোনালদো তার দীর্ঘ জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ অধিকার কেবল খেলোয়াড়টিরই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত।’
দলের প্রয়োজনে রোনালদো
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীকে পর্তুগালের কতটা প্রয়োজন, সেটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন জেসুস। কোচ বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’ ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেয়া জেসুস এবারের ফিফা উইন্ডোতে রোনালদোকে ওয়েলসের বিপক্ষে একাদশে রাখলেও নরওয়ের ম্যাচে বেঞ্চে রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ার্মআপ করালেও মাঠে না নামানোর ফলে ২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রোনালদো পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থাকার পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার অভিজ্ঞতা ২০০৮ সালের পর এই প্রথম হয়েছিল রোনালদোর।
সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া
নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর দলের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে।’ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। ক্রিস ফিরলে আমরা তাকে দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করব।’
বিশ্ব রেকর্ডের মালিক রোনালদো
- পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬টি গোল করেছেন রোনালদো।
- জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল—উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে।
- তাঁর নেতৃত্বেই পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরো এবং দুবার নেশনস লিগ জয় করেছে।
- রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে গনসালো রামোস গত তিন ম্যাচে নিয়মিত গোল পেয়েছেন।
পর্তুগাল দলের পরের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নভেম্বরে, যেখানে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে খেলবে দলটি। ক্যাম্প ছাড়ার পর রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, জাতীয় দল ছাড়ার কারণ তিনি যথাযথ সময়ে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করবেন। তবে বর্তমানে পর্তুগাল কোচের পক্ষ থেকে ফেরার বিষয়টি খেলোয়াড়ের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে রোনালদোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পর্তুগালের ইতিহাসে রোনালদোর প্রভাব যে কতটা গভীর, তা দেশটির অর্থমন্ত্রী ও সতীর্থদের মন্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে।
প্রতিনিধির নাম 

























