নিউইয়র্কের আড্ডায় আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী গাইবান্ধার আব্দুস সালাম

নিউইয়র্কের এক প্রাণবন্ত আড্ডায় যেন মুহূর্তেই ফিরে এল গাইবান্ধা। এই আড্ডার মূল আকর্ষণে ছিলেন গাইবান্ধাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিউকে) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম। সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা আব্দুস সালাম গত ৫ অক্টোবর সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সাথে এক আন্তরিক সম্মিলনে মিলিত হন। প্রবাসে পরিচিতজনদের সান্নিধ্য পেয়ে উচ্ছ্বসিত আব্দুস সালাম বলেন, নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে পরিচিত সবার সাথে দেখা হওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের। একজনের স্মৃতিচারণ শেষ হতে না হতেই আরেকজন ফিরে যাচ্ছিলেন গাইবান্ধায়—গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিউকে) কার্যালয়ে কাটানো সময় আর সেখানকার আন্তরিক আতিথেয়তার স্মৃতিতে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে বসেও কথায় কথায় ফিরে আসছিল বাংলাদেশের উত্তরের জনপদটি। সন্ধ্যায় তাঁকে ঘিরে একত্র হন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। আব্দুস সালামের সহধর্মিণী, জিউকের প্রতিষ্ঠাতা সদস‍্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা শামীমা মাহমুদা ইয়াসমিন এবং তাদের ছেলে জিউকের অন‍্যতম পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুল নূর রিশাত। আড্ডায় জমিয়ে রেখেছিলেন আড্ডার আয়োজক এবং অনলাইন সংবাদ পোর্টাল ‘সন্ধান’-এর সম্পাদক সনজীবন কুমার সরকার ও তাঁর সহধর্মিণী প্রতিমা সরকার, ঠিকানার বার্তা সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সম্পাদক কানু দত্ত, প্রজ্ঞা সম্পাদক উত্তম। যাঁরা আগে জিউকে ঘুরে এসেছেন, তাঁদের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের পাশাপাশি বারবার উঠে আসে সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা। দূরদেশের এই মিলনসন্ধ্যায় সেই পুরোনো পরিচয়গুলো যেন নতুন করে উষ্ণ হয়ে ওঠে। আব্দুস সালামও সবাইকে গাইবান্ধায় জিউকে পরিদর্শন ও আতিথেয়তা গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

আড্ডায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে তিনি গাইবান্ধায় জিউকে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রবাস থেকে কেউ জিউকে ভ্রমণে গেলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হই। তার এই আন্তরিক আমন্ত্রণে উপস্থিত অনেকেই ইতিবাচক সাড়া দেন। এই সম্মিলনটি প্রবাসে অবস্থানরত গাইবান্ধার মানুষের জন্য এক আবেগপূর্ণ স্মৃতিচারণের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

১৯৮৫ সালে গাইবান্ধায় প্রতিষ্ঠিত গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিউকে) প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ পথচলায় ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা জিউকের বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এই সংস্থাটি ১৭টি জেলায় মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অতিদরিদ্র পরিবারের ৩২ হাজারেরও বেশি নারী ও পুরুষকে বিভিন্ন ধরণের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে জিউকে। এছাড়া শিক্ষা বিস্তারেও সংস্থাটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গাইবান্ধা শহরসংলগ্ন নশরৎপুরে প্রায় ২০ বিঘা জমি জুড়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে জিউকের এই বহুমুখী কার্যক্রম বর্তমানে দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

নিউইয়র্কের আড্ডায় আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী গাইবান্ধার আব্দুস সালাম

আপলোডের সময় : 10:16:53 am, Tuesday, 6 October 2026

নিউইয়র্কের এক প্রাণবন্ত আড্ডায় যেন মুহূর্তেই ফিরে এল গাইবান্ধা। এই আড্ডার মূল আকর্ষণে ছিলেন গাইবান্ধাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিউকে) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম। সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা আব্দুস সালাম গত ৫ অক্টোবর সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের সাথে এক আন্তরিক সম্মিলনে মিলিত হন। প্রবাসে পরিচিতজনদের সান্নিধ্য পেয়ে উচ্ছ্বসিত আব্দুস সালাম বলেন, নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে পরিচিত সবার সাথে দেখা হওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের। একজনের স্মৃতিচারণ শেষ হতে না হতেই আরেকজন ফিরে যাচ্ছিলেন গাইবান্ধায়—গণউন্নয়ন কেন্দ্রের (জিউকে) কার্যালয়ে কাটানো সময় আর সেখানকার আন্তরিক আতিথেয়তার স্মৃতিতে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে বসেও কথায় কথায় ফিরে আসছিল বাংলাদেশের উত্তরের জনপদটি। সন্ধ্যায় তাঁকে ঘিরে একত্র হন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। আব্দুস সালামের সহধর্মিণী, জিউকের প্রতিষ্ঠাতা সদস‍্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা শামীমা মাহমুদা ইয়াসমিন এবং তাদের ছেলে জিউকের অন‍্যতম পরিচালক আবু সায়েম মো. জান্নাতুল নূর রিশাত। আড্ডায় জমিয়ে রেখেছিলেন আড্ডার আয়োজক এবং অনলাইন সংবাদ পোর্টাল ‘সন্ধান’-এর সম্পাদক সনজীবন কুমার সরকার ও তাঁর সহধর্মিণী প্রতিমা সরকার, ঠিকানার বার্তা সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সম্পাদক কানু দত্ত, প্রজ্ঞা সম্পাদক উত্তম। যাঁরা আগে জিউকে ঘুরে এসেছেন, তাঁদের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির কাজের পাশাপাশি বারবার উঠে আসে সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা। দূরদেশের এই মিলনসন্ধ্যায় সেই পুরোনো পরিচয়গুলো যেন নতুন করে উষ্ণ হয়ে ওঠে। আব্দুস সালামও সবাইকে গাইবান্ধায় জিউকে পরিদর্শন ও আতিথেয়তা গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

আড্ডায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে তিনি গাইবান্ধায় জিউকে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রবাস থেকে কেউ জিউকে ভ্রমণে গেলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হই। তার এই আন্তরিক আমন্ত্রণে উপস্থিত অনেকেই ইতিবাচক সাড়া দেন। এই সম্মিলনটি প্রবাসে অবস্থানরত গাইবান্ধার মানুষের জন্য এক আবেগপূর্ণ স্মৃতিচারণের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

১৯৮৫ সালে গাইবান্ধায় প্রতিষ্ঠিত গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিউকে) প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ পথচলায় ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা জিউকের বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এই সংস্থাটি ১৭টি জেলায় মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অতিদরিদ্র পরিবারের ৩২ হাজারেরও বেশি নারী ও পুরুষকে বিভিন্ন ধরণের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে জিউকে। এছাড়া শিক্ষা বিস্তারেও সংস্থাটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গাইবান্ধা শহরসংলগ্ন নশরৎপুরে প্রায় ২০ বিঘা জমি জুড়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে জিউকের এই বহুমুখী কার্যক্রম বর্তমানে দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।