
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর রাতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানা গেছে। এসএসকেএম হাসপাতালে গুরুতর আহতদের স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপের একাংশ ভেঙে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি নামলে অনেক দর্শনার্থী আশ্রয় নেওয়ার জন্য মণ্ডপের ভেতরে ভিড় করেন। প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়লে দর্শনার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন, যা পরবর্তীতে পদদলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থলে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে পদদলনের মতো রূপ নেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মণ্ডপের ভেঙে পড়া কাঠামো সরিয়ে আহতদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ডা. তমাল ভট্টাচার্য জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অন্তত চারজন ভুক্তভোগীকে দেখেছেন। এর মধ্যে একজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং আরও দুজনের মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়া আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মণ্ডপ ভেঙে পড়ার পর তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যদিও পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় সক্রিয় হয়। আরও বেশি মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমানে মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























