গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সিলগালা করলো জেলা প্রশাসন

মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা: আজ ১৩/০৬/২০২৪ ইং অবশেষে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আল হাসান প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, সহকারী কমিশনার আশরাফুল হক ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সেরাজুল হকসহ অন্যরা। ইউএনও মাহমুদ আল হাসান জানান, জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেবেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৮ মে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সদস্যদের পক্ষে ক্লাবের সভাপতি কে. এম রেজাউল হক ও যুগ্ম সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা স্বাক্ষরিত ‘সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল ও বৈধ সদস্যদের বের করে দেওয়া এবং যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রসঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য’ এক পত্রে জেলা প্রশাসকের কাছে এক আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, ‘১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধা প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যা সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করছে। ২০০১ সালে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন কার্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় বর্তমান ভবনটি গড়ে তোলা হয়। সেই থেকে প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকরা ভবনটিকে কেন্দ্র করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ সালে শেষ হয়। পরে গত ২৫ মে পূর্ব মনোনীত নির্বাচনের কমিশনারদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সাধারণ সভা নির্ধারিত ছিল।

No description available.

ঐ সভার শুরু প্রাক্কালে অনারবোর্ড ও সাধারণ সদস্যদের তালিকার বোর্ড সুকৌশলে সরিয়ে ফেলে একটি চক্র। সাংবাদিক নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী জোর করে সভা কক্ষে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি বৈধ সাংবাদিক সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদেরকে সদস্য দাবী করে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করে। এই পরিস্থিতে সভাপতি কে.এম রেজাউল হক সভার মূলতবি ঘোষণা করেন। এরপর ঐ বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিকেলে প্রেসক্লাব ভবনের দরজা ও মেইন গেইটের তালা ভেঙ্গে ফেলে নতুন তালা লাগিয়ে দখল করে নেয়। তারা সন্ধ্যায় অজ্ঞাতস্থানে বসে কমিটি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুহুর্তে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রুপ নিতে পারে। এই অবস্থা এড়াতে আপনার আইনী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সাথে অনতিবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে নতুন কমিটি গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’ প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের (কাঁচারি বাজার) একাংশ এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের (আসাদুজ্জামান মার্কেট) একাংশ মিলে সাংবাদিকদের একটি পক্ষ দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জেলা প্রতিনিধি আবেদুর রহমান স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য ২৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এ ঘটনার ১১ দিন পর গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (কাঁচারি বাজার), গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (আসাদুজ্জামান মার্কেট), প্রেসক্লাব গাইবান্ধা (আল-মদিনা মার্কেট) ও রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ চার সংগঠন মিলে সাংবাদিকদের আরেকটি পক্ষ গেল ৫ জুন সাপ্তাহিক চলমান জবাবের সম্পাদক সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটনকে সভাপতি এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ইদ্রিসউজ্জামান মোনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষণা দেয়।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সিলগালা করলো জেলা প্রশাসন

আপলোডের সময় : 04:59:54 pm, Thursday, 13 June 2024

মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা: আজ ১৩/০৬/২০২৪ ইং অবশেষে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন) দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আল হাসান প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, সহকারী কমিশনার আশরাফুল হক ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সেরাজুল হকসহ অন্যরা। ইউএনও মাহমুদ আল হাসান জানান, জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেবেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৮ মে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সদস্যদের পক্ষে ক্লাবের সভাপতি কে. এম রেজাউল হক ও যুগ্ম সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা স্বাক্ষরিত ‘সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল ও বৈধ সদস্যদের বের করে দেওয়া এবং যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রসঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য’ এক পত্রে জেলা প্রশাসকের কাছে এক আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, ‘১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধা প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যা সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করছে। ২০০১ সালে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন কার্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় বর্তমান ভবনটি গড়ে তোলা হয়। সেই থেকে প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকরা ভবনটিকে কেন্দ্র করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ সালে শেষ হয়। পরে গত ২৫ মে পূর্ব মনোনীত নির্বাচনের কমিশনারদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সাধারণ সভা নির্ধারিত ছিল।

No description available.

ঐ সভার শুরু প্রাক্কালে অনারবোর্ড ও সাধারণ সদস্যদের তালিকার বোর্ড সুকৌশলে সরিয়ে ফেলে একটি চক্র। সাংবাদিক নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসী জোর করে সভা কক্ষে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি বৈধ সাংবাদিক সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদেরকে সদস্য দাবী করে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করে। এই পরিস্থিতে সভাপতি কে.এম রেজাউল হক সভার মূলতবি ঘোষণা করেন। এরপর ঐ বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিকেলে প্রেসক্লাব ভবনের দরজা ও মেইন গেইটের তালা ভেঙ্গে ফেলে নতুন তালা লাগিয়ে দখল করে নেয়। তারা সন্ধ্যায় অজ্ঞাতস্থানে বসে কমিটি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুহুর্তে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রুপ নিতে পারে। এই অবস্থা এড়াতে আপনার আইনী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সাথে অনতিবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে নতুন কমিটি গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’ প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের (কাঁচারি বাজার) একাংশ এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের (আসাদুজ্জামান মার্কেট) একাংশ মিলে সাংবাদিকদের একটি পক্ষ দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জেলা প্রতিনিধি আবেদুর রহমান স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য ২৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এ ঘটনার ১১ দিন পর গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (কাঁচারি বাজার), গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (আসাদুজ্জামান মার্কেট), প্রেসক্লাব গাইবান্ধা (আল-মদিনা মার্কেট) ও রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ চার সংগঠন মিলে সাংবাদিকদের আরেকটি পক্ষ গেল ৫ জুন সাপ্তাহিক চলমান জবাবের সম্পাদক সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটনকে সভাপতি এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ইদ্রিসউজ্জামান মোনাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষণা দেয়।