
সম্প্রতি “হ্নীলা নাটমোড়াপাড়া এলাকা সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের অভয়ারণ্য” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রহস্যজনকভাবে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অভিযোগ।
এলাকাবাসী ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হ্নীলা ইউনিয়নের নাটমোড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদের পুত্র ছৈয়দ করিম রনি ও তার জ্যাঠাতো ভাই ইসমাইলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, উলুচামরী কোনারপাড়া এলাকার লম্বা মিজান ও ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে তারা একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলে, যা বর্তমানে নাটমোড়াপাড়াকে বহিরাগত মাদক পাচারকারী ও অস্ত্রধারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছে। সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটটি ইয়াবা, অস্ত্র ও স্বর্ণ পাচারের পাশাপাশি আদম পাচারের সাথেও জড়িত। তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদক চক্রের কোনো সদস্য নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গেলে তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইসমাইল ও লম্বা মিজান তাদের সহযোগীদের ব্যবহার করে হ্নীলা জালিয়াপাড়া ও চৌধুরীপাড়ার মধ্যবর্তী স্লুইসগেইট এলাকাকে অস্ত্রের মহড়া ও মাদক চালান স্থানান্তরের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। পরে এসব অবৈধ চালান নাটমোড়াপাড়ায় অবস্থিত ইসমাইল ও ছৈয়দ করিমের বাড়িতে মজুদ রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ছৈয়দ করিম রনি হ্নীলা বাসস্টেশনের একটি রড-সিমেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাসিক ভিত্তিতে কাজ করার পাশাপাশি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সিন্ডিকেটের মাদক চালান বিভিন্ন স্থানে পাচারে সহযোগিতা করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়াও, সিন্ডিকেটের কোনো সমস্যা দেখা দিলে ছৈয়দ করিম গোপনে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে অপহরণ নাটক সাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডে উলুচামরীর লার্ড জালাল ও কোনারপাড়ার লম্বা মিজানের সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করা হয় বলেও স্থানীয়দের ভাষ্য।
সম্প্রতি এই চক্রের কথিত অপহরণ নাটকের শিকার হন নাটমোড়াপাড়ার অলি আহমদ ও ইসমাইল নামের দুই যুবক। আরও জানা গেছে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তা ধামাচাপা দিতে ছৈয়দ করিম বিভিন্ন গডফাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি “ম্যানেজ” করার চেষ্টা চালান। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদের ছেলে ছৈয়দ করিম রনি দীর্ঘ প্রায় দুই বছর নাটমোড়াপাড়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থান করার পর বর্তমানে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। একইসঙ্গে তার জ্যাঠাতো ভাই ইসমাইলের পিতা বাদশাও ওই আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে স্থানীয়রা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।