১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন পলাশবাড়ীর কৃতি সন্তান নাজনীন নাহার জ্যোতি

‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’ এই স্লোগান নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচীতে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬।

বুধবার (১৩মে) রাজধানীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাচ, গান ও মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন-শোর আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সমাজে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সারা বাংলাদেশ থেকে ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ২৫ জনকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

এবারের আয়োজনে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার “প্রত্যাশা শিশু বিকাশ কেন্দ্র এন্ড থেরাপী সেন্টার”-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সমাজসেবক ও অটিজমবান্ধব মানবিক ব্যক্তিত্ব নাজনীন নাহার জ্যোতি। তিনি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে টানা ৫ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারে ভূষিত হলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। এ সময় মন্ত্রী নাজনীন জ্যোতির হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়ায় উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দিত করেন। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অটিজম কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়; সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তারা পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

নাজনীন নাহার জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে অটিজম সচেতনতা, শিশু বিকাশ ও মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার নিরলস প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি জানিয়ে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এসময় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, বিশেষ শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশনা এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

সম্মাননা গ্রহণ শেষে নাজনীন নাহার জ্যোতি বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন, তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। ভবিষ্যতেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমি কাজ করে যেতে চাই।”

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজকরা অটিজমবান্ধব সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন পলাশবাড়ীর কৃতি সন্তান নাজনীন নাহার জ্যোতি

আপলোডের সময় : 10:47:11 pm, Sunday, 17 May 2026

‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’ এই স্লোগান নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচীতে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬।

বুধবার (১৩মে) রাজধানীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাচ, গান ও মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন-শোর আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সমাজে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সারা বাংলাদেশ থেকে ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ২৫ জনকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

এবারের আয়োজনে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার “প্রত্যাশা শিশু বিকাশ কেন্দ্র এন্ড থেরাপী সেন্টার”-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সমাজসেবক ও অটিজমবান্ধব মানবিক ব্যক্তিত্ব নাজনীন নাহার জ্যোতি। তিনি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে টানা ৫ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারে ভূষিত হলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। এ সময় মন্ত্রী নাজনীন জ্যোতির হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়ায় উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দিত করেন। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অটিজম কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়; সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তারা পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

নাজনীন নাহার জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে অটিজম সচেতনতা, শিশু বিকাশ ও মানবিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার নিরলস প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি জানিয়ে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এসময় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, বিশেষ শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশনা এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

সম্মাননা গ্রহণ শেষে নাজনীন নাহার জ্যোতি বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন, তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। ভবিষ্যতেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমি কাজ করে যেতে চাই।”

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজকরা অটিজমবান্ধব সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।