গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লন্ডভন্ড ৪ ইউনিয়নের বেশ কিছু চর, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

গাইবান্ধায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র ঝড়ে জেলার ফুলছড়ী ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাদি ফসল।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে আকাশ হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধুলোঝড়সহ তীব্র বেগে কালবৈশাখী আঘাত হানে। ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ পরিবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে।
​ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ক্ষয়ক্ষতি:
​ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুলছড়ী ও সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে রয়েছে:
​ফুলছড়ী উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নের চর চৌমোহন ও কাউয়াবাধা গ্রামে ঝড়ের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। চরের কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়িগুলো বাতাসে উড়ে গেছে।
​এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নের বুলবুলির চর এলাকার বেশ কিছু বাড়িঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
​গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন: যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় অবস্থিত খারজানীর চর সহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, “সকালে হঠাৎ করেই চারদিক অন্ধকার হয়ে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চাল উড়ে যায়। চরের বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।”

​ঝড়ের পরপরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে নেমেছেন। আকস্মিক এই দুর্যোগে চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও চরের ফসলি জমি, বিশেষ করে ভুট্টা ও বাদাম ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লন্ডভন্ড ৪ ইউনিয়নের বেশ কিছু চর, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

আপলোডের সময় : 06:48:31 am, Tuesday, 19 May 2026

গাইবান্ধায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র ঝড়ে জেলার ফুলছড়ী ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাদি ফসল।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে আকাশ হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধুলোঝড়সহ তীব্র বেগে কালবৈশাখী আঘাত হানে। ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ পরিবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে।
​ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ক্ষয়ক্ষতি:
​ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুলছড়ী ও সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে রয়েছে:
​ফুলছড়ী উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নের চর চৌমোহন ও কাউয়াবাধা গ্রামে ঝড়ের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। চরের কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়িগুলো বাতাসে উড়ে গেছে।
​এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নের বুলবুলির চর এলাকার বেশ কিছু বাড়িঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
​গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন: যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় অবস্থিত খারজানীর চর সহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, “সকালে হঠাৎ করেই চারদিক অন্ধকার হয়ে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চাল উড়ে যায়। চরের বহু মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।”

​ঝড়ের পরপরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে নেমেছেন। আকস্মিক এই দুর্যোগে চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও চরের ফসলি জমি, বিশেষ করে ভুট্টা ও বাদাম ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
​ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন।