নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের কঠোর অবস্থান

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও ঝটিকা মিছিল কঠোরভাবে দমনে মাঠ পর্যায়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা তথ্য সরবরাহে ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে গুলশানের সাম্প্রতিক মিছিলের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন ও গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে ক্লোজ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক বিশেষ বৈঠকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের অভাব ও নজরদারিতে দুর্বলতার কারণে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও গোপনে অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। গত শুক্রবার গুলশানে মিছিলকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ককটেল হামলারও শিকার হয়েছিল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুমার নামাজের সময়ের সুযোগ নিয়ে ওই মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পুলিশ শুরুতে আঁচ করতে পারেনি।

গাজীপুরের পূবাইল এবং চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকাতেও একই কায়দায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই নিষিদ্ধ দলটি তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করাই নয়, মিছিলের আগে পুলিশি প্রস্তুতি কী ছিল এবং কেন তা ব্যর্থ হয়েছে, তাও এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিক বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ প্রিভেন্টিভ মেজার বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলে জোর দিয়েছেন। অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে এখন রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি এবং আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকার নিয়মিত সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের মুভমেন্ট ও সম্ভাব্য অপতৎপরতা রোধে এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে মিছিলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারীদের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সভা নিয়মিত হচ্ছে। এছাড়া বাসাবাড়ি, মেস ও হোস্টেলে সম্ভাব্য অরাজকতা রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই অভিযান পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ যেন না হয়, সে বিষয়ে থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগাম তথ্য না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় একাধিক খণ্ড খণ্ড মিছিল তারা ইতিমধ্যে করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডিএমপি’র সদর দপ্তরেও বিশেষ বৈঠক হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই বৈঠক থেকে পুলিশের সবক’টি ইউনিট প্রধানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো মিছিল ঠেকাতে না পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ তার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের কঠোর অবস্থান

আপলোডের সময় : 08:52:14 am, Thursday, 17 September 2026

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও ঝটিকা মিছিল কঠোরভাবে দমনে মাঠ পর্যায়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা তথ্য সরবরাহে ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে গুলশানের সাম্প্রতিক মিছিলের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন ও গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে ক্লোজ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক বিশেষ বৈঠকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের অভাব ও নজরদারিতে দুর্বলতার কারণে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও গোপনে অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। গত শুক্রবার গুলশানে মিছিলকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ককটেল হামলারও শিকার হয়েছিল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুমার নামাজের সময়ের সুযোগ নিয়ে ওই মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পুলিশ শুরুতে আঁচ করতে পারেনি।

গাজীপুরের পূবাইল এবং চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকাতেও একই কায়দায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই নিষিদ্ধ দলটি তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করাই নয়, মিছিলের আগে পুলিশি প্রস্তুতি কী ছিল এবং কেন তা ব্যর্থ হয়েছে, তাও এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিক বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ প্রিভেন্টিভ মেজার বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলে জোর দিয়েছেন। অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে এখন রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি এবং আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকার নিয়মিত সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের মুভমেন্ট ও সম্ভাব্য অপতৎপরতা রোধে এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে মিছিলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারীদের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সভা নিয়মিত হচ্ছে। এছাড়া বাসাবাড়ি, মেস ও হোস্টেলে সম্ভাব্য অরাজকতা রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই অভিযান পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ যেন না হয়, সে বিষয়ে থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগাম তথ্য না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় একাধিক খণ্ড খণ্ড মিছিল তারা ইতিমধ্যে করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডিএমপি’র সদর দপ্তরেও বিশেষ বৈঠক হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই বৈঠক থেকে পুলিশের সবক’টি ইউনিট প্রধানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো মিছিল ঠেকাতে না পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ তার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেয়া হবে।