বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক রুটে সেবার পরিধি বাড়ানো এবং বহরকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালীন সাইডলাইনে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ক্রয়াদেশের আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে। চলতি বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে সংগ্রহের তালিকায় বিমানের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

নতুন এই উদ্যোগকে বিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন। তিনি জানান, দেশের জনগণ, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বিমান। বহরের বিদ্যমান বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের পরিচালন দক্ষতা আরও সুসংহত করবে। বোয়িং কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, ৭৩৭-৮ এবং ৭৮৭-১০ মডেলের এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজন ও বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণের বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমানের সেবার মান ও পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

আপলোডের সময় : 10:58:32 am, Thursday, 24 September 2026

আন্তর্জাতিক রুটে সেবার পরিধি বাড়ানো এবং বহরকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালীন সাইডলাইনে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ক্রয়াদেশের আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে। চলতি বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে সংগ্রহের তালিকায় বিমানের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

নতুন এই উদ্যোগকে বিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন। তিনি জানান, দেশের জনগণ, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বিমান। বহরের বিদ্যমান বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের পরিচালন দক্ষতা আরও সুসংহত করবে। বোয়িং কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, ৭৩৭-৮ এবং ৭৮৭-১০ মডেলের এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজন ও বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণের বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমানের সেবার মান ও পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।