বাগেরহাটের জহিরুল হত্যার প্রধান আসামী ঢাকা হতে আটক

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন এলাকায় “চাঞ্চল্যকর জহিরুল ইসলাম ডালিম হত্যা মামলার” অন্যতম প্রধান আসামী ভিকটিমের সৎ মা ও ভাইকে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকা হতে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী মো: জহিরুল ইসলাম ডালিমের বাবা এবং তার বড়ো ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে ভিকটিম জহিরুলের সম্পত্তি ভোগ দখলে যাওয়ার জন্য তার সৎ মা মোসা: জুলেখা বেগম এবং সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদার ভিকটিম জহিরুল’কে হত্যা করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করে ।গত ১৮ মার্চ ২০২৪ আনুমানিক বিকাল ০৩:৪৫ ঘটিকায় ভিকটিম জহিরুল তার সৎ মা জুলেখা এর সাথে দুপুরের খাবার নিয়ে বাকবিতÐা হয়। এসময় ভিকটিমের সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদারসহ অপর আসামীরা পূর্ব শত্রæতার জের ধরে অতর্কিতভাবে হামলা করলে ভিকটিম জহিরুল জীবন বাঁচানোর জন্য দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম জহিরুল বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন উত্তর সুতালড়ী গ্রামের হারুন হাওলাদারের গোয়ালঘরের সামনে পড়ে গেলে আসামী সিয়াম ও জুলেখা শক্ত লাঠি ও ঘরের দরজার ডাসা দিয়ে জহিরুলের মাথা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ভিকটিম জহিরুলের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার জখম গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্র্ড করে। পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ ২০২৪ সকাল ০৭:৫০ ঘটিকায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। উক্ত ঘটনায় মৃত ভিকটিম জহিরুলের বোন মোসাঃ সালমা বেগম বাদী হয়ে বাগেরাহাট মোরেলগঞ্জ থানায় তার সৎ মা মোসা: জুলেখা বেগম ও সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদারসহ ০৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৩, তারিখ-২২/০৪/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে জুলেখা ও সিয়ামসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়।
র‍্যাব জানান,উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি শুরু করে।
র‌্যাব-১০ এবং র‌্যাব-০৬ এর উক্ত যৌথ আভিযানিক দল গতকাল ০৯ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ১২:৩৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় এবং র‌্যাব-০৬ এর সহযোগীতায় ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন পশ্চিম আশরাফবাদ এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঞ্চল্যকর জহিরুল ইসলাম ডালিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী ১। মোছাঃ জুলেখা বিবি (৪০), পিতা- ইসমাইল খান, ২। সিয়াম হাওলাদার (১৭), পিতা- মৃত মতিয়ার হাওলদার উভয় সাং- উত্তর সুতালড়ী, ১৪নং বারইখালী ইউনিয়ন, থানা- মোড়েলগঞ্জ, জেলা- বাগেরহাট’কে (১৭) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা উক্ত হত্যাকান্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

বাগেরহাটের জহিরুল হত্যার প্রধান আসামী ঢাকা হতে আটক

আপলোডের সময় : 08:40:31 am, Wednesday, 11 December 2024

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন এলাকায় “চাঞ্চল্যকর জহিরুল ইসলাম ডালিম হত্যা মামলার” অন্যতম প্রধান আসামী ভিকটিমের সৎ মা ও ভাইকে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকা হতে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী মো: জহিরুল ইসলাম ডালিমের বাবা এবং তার বড়ো ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে ভিকটিম জহিরুলের সম্পত্তি ভোগ দখলে যাওয়ার জন্য তার সৎ মা মোসা: জুলেখা বেগম এবং সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদার ভিকটিম জহিরুল’কে হত্যা করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করে ।গত ১৮ মার্চ ২০২৪ আনুমানিক বিকাল ০৩:৪৫ ঘটিকায় ভিকটিম জহিরুল তার সৎ মা জুলেখা এর সাথে দুপুরের খাবার নিয়ে বাকবিতÐা হয়। এসময় ভিকটিমের সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদারসহ অপর আসামীরা পূর্ব শত্রæতার জের ধরে অতর্কিতভাবে হামলা করলে ভিকটিম জহিরুল জীবন বাঁচানোর জন্য দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ভিকটিম জহিরুল বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানাধীন উত্তর সুতালড়ী গ্রামের হারুন হাওলাদারের গোয়ালঘরের সামনে পড়ে গেলে আসামী সিয়াম ও জুলেখা শক্ত লাঠি ও ঘরের দরজার ডাসা দিয়ে জহিরুলের মাথা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ভিকটিম জহিরুলের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার জখম গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্র্ড করে। পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ ২০২৪ সকাল ০৭:৫০ ঘটিকায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। উক্ত ঘটনায় মৃত ভিকটিম জহিরুলের বোন মোসাঃ সালমা বেগম বাদী হয়ে বাগেরাহাট মোরেলগঞ্জ থানায় তার সৎ মা মোসা: জুলেখা বেগম ও সৎ ভাই মো: সিয়াম হাওলাদারসহ ০৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৩, তারিখ-২২/০৪/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে জুলেখা ও সিয়ামসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়।
র‍্যাব জানান,উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি শুরু করে।
র‌্যাব-১০ এবং র‌্যাব-০৬ এর উক্ত যৌথ আভিযানিক দল গতকাল ০৯ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ১২:৩৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় এবং র‌্যাব-০৬ এর সহযোগীতায় ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন পশ্চিম আশরাফবাদ এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঞ্চল্যকর জহিরুল ইসলাম ডালিম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী ১। মোছাঃ জুলেখা বিবি (৪০), পিতা- ইসমাইল খান, ২। সিয়াম হাওলাদার (১৭), পিতা- মৃত মতিয়ার হাওলদার উভয় সাং- উত্তর সুতালড়ী, ১৪নং বারইখালী ইউনিয়ন, থানা- মোড়েলগঞ্জ, জেলা- বাগেরহাট’কে (১৭) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা উক্ত হত্যাকান্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।