অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত

অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের মতো গুরুতর অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নেত্রকোনার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

প্রজ্ঞাপনে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের সুপারিশ করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়।

হাবিবুল্লাহ দালাল সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি কাটিয়ে ২৬ জানুয়ারি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান এবং ৬০ দিনের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। বিভাগীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানায়, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিন অতিক্রম করায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর পিএসসির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই আদেশটিও ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই পুলিশ অধিদপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত

আপলোডের সময় : 10:33:55 am, Thursday, 3 September 2026

অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের মতো গুরুতর অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নেত্রকোনার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল।

প্রজ্ঞাপনে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের সুপারিশ করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়।

হাবিবুল্লাহ দালাল সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি কাটিয়ে ২৬ জানুয়ারি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান এবং ৬০ দিনের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। বিভাগীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্তের আদেশ ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানায়, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিন অতিক্রম করায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর পিএসসির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই আদেশটিও ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই পুলিশ অধিদপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে।