অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর ও ঘুষখোর, মন্তব্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের

দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশ এখন দুর্নীতি ও ঘুষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকর্তার ঘুষ ও লুটপাটের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার পুরোপুরি লুণ্ঠন করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, গত সরকারের আমলের একজন প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডনে প্রায় ৩৬০টি বাড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশটা সত্যিই অদ্ভুত অবস্থায় আছে। বর্তমানে প্রশাসনে এখনো আগের সরকারের অনেক অনুগত ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলে প্রশাসনের আসল চিত্র জনগণের সামনে সঠিকভাবে উঠে আসছে না।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্পিকার বলেন, তারা বাংলাদেশ ভালো থাকুক সেটা চায় না, বরং আমাদের একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, গত ১৬-১৭ বছরে আগের সরকার দেশের স্বার্থের বদলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ আসা মাত্রই অন্যান্য জাহাজ এমনকি বাংলাদেশের নিজেদের জাহাজকেও বন্দর খালি করে দিতে বলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা এসব পণ্যের সঠিক শুল্ক প্রদান করে না, বরং বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহন করছে যা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সরাসরি বিরোধী।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়েও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে পাকিস্তানেরও সীমান্ত রয়েছে, কিন্তু আমাদের সীমান্তে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন খুললেই দেখা যায় আহত বা নিহতের খবর। এই পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ, তাদের দলীয় কর্মী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দায়ী বলে তিনি দাবি করেন। স্পিকারের ভাষ্যমতে, তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এবং লুটপাটে মগ্ন থেকে বাংলাদেশকে অন্য দেশের সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর ও ঘুষখোর, মন্তব্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের

আপলোডের সময় : 09:41:40 am, Monday, 14 September 2026

দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশ এখন দুর্নীতি ও ঘুষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকর্তার ঘুষ ও লুটপাটের কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার পুরোপুরি লুণ্ঠন করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, গত সরকারের আমলের একজন প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডনে প্রায় ৩৬০টি বাড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশটা সত্যিই অদ্ভুত অবস্থায় আছে। বর্তমানে প্রশাসনে এখনো আগের সরকারের অনেক অনুগত ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলে প্রশাসনের আসল চিত্র জনগণের সামনে সঠিকভাবে উঠে আসছে না।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্পিকার বলেন, তারা বাংলাদেশ ভালো থাকুক সেটা চায় না, বরং আমাদের একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, গত ১৬-১৭ বছরে আগের সরকার দেশের স্বার্থের বদলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ আসা মাত্রই অন্যান্য জাহাজ এমনকি বাংলাদেশের নিজেদের জাহাজকেও বন্দর খালি করে দিতে বলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা এসব পণ্যের সঠিক শুল্ক প্রদান করে না, বরং বিনা শুল্কে বা নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহন করছে যা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সরাসরি বিরোধী।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়েও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে পাকিস্তানেরও সীমান্ত রয়েছে, কিন্তু আমাদের সীমান্তে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন খুললেই দেখা যায় আহত বা নিহতের খবর। এই পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ, তাদের দলীয় কর্মী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দায়ী বলে তিনি দাবি করেন। স্পিকারের ভাষ্যমতে, তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এবং লুটপাটে মগ্ন থেকে বাংলাদেশকে অন্য দেশের সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করেছে।