
দেশে যেসব কৃষিপণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর আমদানি ধাপে ধাপে কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল করে তোলার আহ্বান জানান। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে বৈঠকস্থলে গিয়ে তিনি কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে চাষযোগ্য খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং গবেষণার সুফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের তথ্যে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি শুধু ধানের জাত। এছাড়া এক হাজারের বেশি নতুন কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। লোনা পানি, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রম ব্যয় কমাতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো কৃষিযন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু আছে। এই নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমবে।
কৃষকদের সরাসরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বৈঠকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ সুবিধা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুরো কার্যক্রমের এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
প্রতিনিধির নাম 
























