জিয়াউর রহমান প্রয়াণ ও তৎকালীন পরিস্থিতির তদন্তে নতুন তথ্যের অনুসন্ধান

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লে. কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এসব তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রসিকিউটর এই ব্রিফিং দেন। তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোজাফফরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, মোজাফফর তার জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, ২৮ মে ১৯৮১ সালে এরশাদ হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সফর করেন। তার ওই সফরের পরপরই ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। ঘটনাটির প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলার তদন্তের খাতিরে গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোজাফফরকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন। বর্তমানে এই দুই ঘটনার যোগসূত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। সামগ্রিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় মোজাফফর হোসেনের দেওয়া এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

জিয়াউর রহমান প্রয়াণ ও তৎকালীন পরিস্থিতির তদন্তে নতুন তথ্যের অনুসন্ধান

আপলোডের সময় : 10:37:57 am, Monday, 14 September 2026

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লে. কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এসব তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রসিকিউটর এই ব্রিফিং দেন। তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোজাফফরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, মোজাফফর তার জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, ২৮ মে ১৯৮১ সালে এরশাদ হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সফর করেন। তার ওই সফরের পরপরই ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। ঘটনাটির প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলার তদন্তের খাতিরে গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোজাফফরকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন। বর্তমানে এই দুই ঘটনার যোগসূত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। সামগ্রিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় মোজাফফর হোসেনের দেওয়া এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।