
ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি। ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার মেয়র জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে দেশের একাধিক শহর ও কাউন্টির সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে ১০৮ পৃষ্ঠার এই মামলাটি দায়ের করেছে। আগামী শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বিতর্কিত বিধিটি বাতিল এবং এর বাস্তবায়ন ঠেকাতেই মূলত এই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।
মেয়র জোহরান মামদানি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অভিবাসী পরিবারগুলো দশকের পর দশক ধরে যে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ভোগ করে আসছে, এই নতুন বিধির মাধ্যমে তাদের সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, আমাদের অভিবাসী কমিউনিটি কোনো বোঝা নয়, বরং তারাই নিউইয়র্ক সিটি ও এই দেশকে মহান করে তুলেছে। শহর ও কাউন্টির এই জোটের নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি। তার মতে, এই বিধিটি একই সঙ্গে নিষ্ঠুর ও বেআইনি।
মামলার বিবরণে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রশাসন কংগ্রেসের নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে মূলত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হতো যারা জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন বিধি এই সংজ্ঞাকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে, যা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভ ব্যাংকস উল্লেখ করেন, এটি শত বছরের প্রতিষ্ঠিত আইনকে উপেক্ষা করে কংগ্রেসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিস্তৃতির প্রয়াস।
এদিকে, একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি আইনি চ্যালেঞ্জের সূচনা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো যুক্ত আছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস জানান, সরকারি সহায়তা চাইলে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট হতে হবে—এই ভয়ে পরিশ্রমী পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি অভিবাসীদের সহায়তায় নিউইয়র্ক সিটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যেকোনো প্রয়োজনে নিউইয়র্কবাসী বিনামূল্যে, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি পরামর্শের জন্য ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারবেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘Immigration Legal’ বললেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের নিজ ভাষায় আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বাদী হিসেবে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি, ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট। চাকরির আরও তথ্য: নতুন বিধি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস অনেক বিস্তৃত পরিসরে বিবেচনায় নিতে পারবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ভাষায়, নিউইয়র্কবাসী ডাক্তার দেখাতে কিংবা আইনগতভাবে প্রাপ্য সহায়তা চাইতে ভয় পাবে-আর এই ভয় শুধু ফেডারেল সরকারের লক্ষ্যবস্তু পরিবারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; যারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তারাও এর প্রভাব অনুভব করবে, আর এর মূল্য দিতে হবে সব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় বলা হয়েছে, প্রশাসন কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হন-কংগ্রেসের সেই অভিপ্রায়ই নতুন বিধিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























