ভারতে না গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম: আসিফ নজরুল

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সে সময় ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি দেশের মর্যাদা রক্ষা এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নেয়া হয়েছিল এবং এটি ছিল অত্যন্ত সঠিক একটি পদক্ষেপ।

আসিফ নজরুল জানান, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই ছিল এবং বিষয়টি তিনি আগেও প্রকাশ্যে একাধিকবার স্বীকার করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অসম্মানজনকভাবে সরিয়ে দেয়ার পরই মূলত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তিনি দাবি করেন, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই ভারতের তৎকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দল যেন অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলতে পারে, সেজন্য তারা শেষ সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েকটি দেশের সমর্থনও আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বঞ্চিত হতে পারে—সে সময় এমন আশঙ্কা তৈরি হলেও পরবর্তীতে ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগের ফলে সেই শঙ্কা দূর হয়েছে বলে আসিফ নজরুল জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি ছোট দেশ বলে কোনো রাষ্ট্র আমাদের ইচ্ছামতো অপমান করবে আর আমরা তা মাথা পেতে মেনে নেব, এমন ধারণা পোষণ করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরপরই নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে মুস্তাফিজের উপস্থিতি, বাংলাদেশী সমর্থকদের মুক্ত চলাচল এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন— এই তিনটি বিষয়কে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আইসিসিতে ভারতীয়দের আধিপত্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া ভারত সরকার বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আমাদের যাওয়ার ব্যাপারে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেয়ায় নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ভারতে না গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম: আসিফ নজরুল

আপলোডের সময় : 09:02:50 am, Wednesday, 16 September 2026

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সে সময় ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি দেশের মর্যাদা রক্ষা এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নেয়া হয়েছিল এবং এটি ছিল অত্যন্ত সঠিক একটি পদক্ষেপ।

আসিফ নজরুল জানান, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই ছিল এবং বিষয়টি তিনি আগেও প্রকাশ্যে একাধিকবার স্বীকার করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অসম্মানজনকভাবে সরিয়ে দেয়ার পরই মূলত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তিনি দাবি করেন, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই ভারতের তৎকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দল যেন অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলতে পারে, সেজন্য তারা শেষ সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েকটি দেশের সমর্থনও আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বঞ্চিত হতে পারে—সে সময় এমন আশঙ্কা তৈরি হলেও পরবর্তীতে ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগের ফলে সেই শঙ্কা দূর হয়েছে বলে আসিফ নজরুল জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি ছোট দেশ বলে কোনো রাষ্ট্র আমাদের ইচ্ছামতো অপমান করবে আর আমরা তা মাথা পেতে মেনে নেব, এমন ধারণা পোষণ করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরপরই নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে মুস্তাফিজের উপস্থিতি, বাংলাদেশী সমর্থকদের মুক্ত চলাচল এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন— এই তিনটি বিষয়কে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আইসিসিতে ভারতীয়দের আধিপত্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাছাড়া ভারত সরকার বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আমাদের যাওয়ার ব্যাপারে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেয়ায় নয়।