
জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় বিএনপি কর্মী জাহিদ হোসেন রাব্বীর মৃত্যুতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ মোট ১২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে মামলাটি করেন রাব্বীর মামা ও খিলগাঁও থানার ঝিলপাড় ইউনিটের যুবদল সদস্য নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থাকে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মামলার আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান নূর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন।
তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়া সাবেক সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমকেও আসামি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শেখ হেলাল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, সাইফুজ্জামান শেখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও ডা. হাবিব এ মিল্লাত এই মামলার আসামি হয়েছেন।
প্রশাসন ও পুলিশের অনেক সাবেক কর্মকর্তাও এই মামলার এজাহারে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম রয়েছে।
পাশাপাশি এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কাহার আকন্দের নামও আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকজন আইনজীবীর নামও এ মামলায় যুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল্লাহ হিরু, মোশাররফ হোসেন কাজল ও খুরশীদ আলম খান রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদ হোসেন রাব্বী একজন ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আন্দোলনের শেষ দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এখন পিবিআই এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, মামলার আসামিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি যাচাই করে সংস্থাটি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন পিবিআইয়ের তদন্তে রাব্বী কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল এবং মামলায় যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই হওয়ার কথা।
প্রতিনিধির নাম 

























