আওয়ামী লীগের নাশকতার আশঙ্কায় মাঠে থাকবে বিএনপি

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবেলায় সারা দেশে নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। এই ফ্যাসিবাদী অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথে রুখে দিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিবগণ, ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে শীর্ষ নেতাদের সাথে তারেক রহমানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা, লং মার্চ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সাথে বিরোধী দলের এক দফার কর্মসূচির কোনো যোগসূত্র বা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নেতারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে, নিষিদ্ধ এই রাজনৈতিক দলের সাথে জামায়াতে ইসলামীর ডিসেম্বরের কর্মসূচির মধ্যে কোনো গোপন সমন্বয় আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে দল দুটির সমঝোতার নজির থাকার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনের ভেতরে এখনো আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের সক্রিয় থাকা নিয়েও বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির একটি কথোপকথনের অডিও ফাঁসের ঘটনার উদাহরণ টেনে নেতারা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদের এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের নেতাদের সাথে বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা। শুধু মূল সংগঠন নয়, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা নাশকতা লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। নেতারা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও বাড়তে পারে, তাই সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি। রাজপথে সক্রিয় থাকার এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

আওয়ামী লীগের নাশকতার আশঙ্কায় মাঠে থাকবে বিএনপি

আপলোডের সময় : 10:22:12 am, Monday, 21 September 2026

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবেলায় সারা দেশে নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। এই ফ্যাসিবাদী অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথে রুখে দিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিবগণ, ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে শীর্ষ নেতাদের সাথে তারেক রহমানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা, লং মার্চ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সাথে বিরোধী দলের এক দফার কর্মসূচির কোনো যোগসূত্র বা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নেতারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে, নিষিদ্ধ এই রাজনৈতিক দলের সাথে জামায়াতে ইসলামীর ডিসেম্বরের কর্মসূচির মধ্যে কোনো গোপন সমন্বয় আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে দল দুটির সমঝোতার নজির থাকার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনের ভেতরে এখনো আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের সক্রিয় থাকা নিয়েও বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির একটি কথোপকথনের অডিও ফাঁসের ঘটনার উদাহরণ টেনে নেতারা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্তে আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদের এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১০ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের নেতাদের সাথে বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা। শুধু মূল সংগঠন নয়, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা নাশকতা লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। নেতারা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও বাড়তে পারে, তাই সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি। রাজপথে সক্রিয় থাকার এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা।