
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ন্যাম ভবনের বাসভবন থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়েছে, যেখানে এমপি নজরুলকে ১ নম্বর এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর দাবি, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও মাকছুদা তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়মের মামা ওবায়দুরই এই পুরো ঘটনার নেপথ্য কারিগর। ওবায়দুরই মরিয়মকে এমপি নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয় এবং বিয়ের জন্য প্ররোচিত করে। এমনকি কোচিংয়ের কথা বলে ওবায়দুর নিয়মিত মরিয়মকে নজরুলের কাছে নিয়ে যেত। তিনি অভিযোগ করেন, ওবায়দুরের যোগসাজশ না থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না এবং তার মেয়েকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না।
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নজরুল ইসলামের ফোন পেয়ে মরিয়মের বাবা ন্যাম ভবনে ছুটে যান এবং মেয়েকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় একটি সুসাইড নোট উদ্ধার করেন তিনি। তবে পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু চিরকুট লাল কালিতে এবং কিছু কালো কালিতে লেখা। উদ্ধার করা নোটগুলোতে মরিয়মের ব্যক্তিগত ক্ষোভ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি চিরকুটে তিনি নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমে তিনি হেরে গেছেন।
আদালতে পুলিশ এই মামলার তদন্তের স্বার্থে নজরুল ও মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুলের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও বয়সের কথা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মৃত্যুর আগে পাওয়া চিরকুট ও পারিবারিক কলহের বিষয়গুলো তুলে ধরে রিমান্ডের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। উভয়পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিমান্ড শুনানির পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং এটি একটি আত্মহত্যাজনিত ঘটনা। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরিয়মের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই নির্যাতন থেকেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এই সবের মূলহোতা হলো আমার শ্যালক ওবায়দুর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওর জন্যই আমি এমপি’র সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ নিতে এসে অশ্রুশিক্ত হয়ে এসব কথা বলছিলেন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় রোববার রাতেই নজরুল ও মাকসুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম স্ত্রী মাকছুদা দ্বিতীয় আসামি ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর ৩ নম্বর আসামি।
প্রতিনিধির নাম 
























