
বিমান বহরকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এই নতুন ক্রয়াদেশের ফলে গত পাঁচ মাসে বোয়িং থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার দুটি ভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ হলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সর্বশেষ এই চুক্তির আওতায় বিমান বহরে যুক্ত হবে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ। তৎকালীন তালিকামূল্য অনুযায়ী এই ১১টি উড়োজাহাজের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও এগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সাথে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রথম চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল, যার মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ওই ক্রয়াদেশে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আসবে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। দুই দফার ক্রয়াদেশ বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহরে ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের দুটি সংস্করণ এবং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স—এই তিন ধরনের মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর বিমানের বহর বেড়ে ৪৪টিতে দাঁড়াবে এবং বোয়িং উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ৩৯টি। জ্বালানিসাশ্রয়ী এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে। নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানিসাশ্রয়ী।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করা হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এমনকি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবেও তিনি প্রশংসা করেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিনিধির নাম 
























