
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত ও প্রস্তাবনা পাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত-এমন মতামতও এসেছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক করতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে টানা দুই দিন ধরে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত রোববার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।
কমিটির সভাপতি আরও জানান, আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাব উঠে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে পাওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমতের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বৈঠকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় এই কাঠামো কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবগুলো সংগ্রহ করে কমিটি পরবর্তী সময়ে সেগুলো পর্যালোচনা করবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির ক্ষমতার সময়সীমা নির্ধারণ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তারা এখনো সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণের পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এছাড়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদটি সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে অন্য কমিশনগুলোর প্রতিবেদন এ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক সংবিধান সংশোধনী প্রণয়নই তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার।
প্রতিনিধির নাম 
























