
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভয়াবহ তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অস্ত্রধারী প্রায় দুই শতাধিক মানুষের হামলায় ওই প্রপার্টিজে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওটিও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাবেক এক সেনাকর্মকর্তাসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের অভিযানে সেগুনবাগিচা থেকে মামলার অন্যতম আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলায় গোলাম মহিউদ্দিন চার নম্বর আসামি। এছাড়া কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুর রহমানকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৮ জনকে। বাসা ৫১২/১০, মানিকদি রোড, ক্যান্টনমেন্ট থানা। রোড নম্বর ৯, মিরপুর ডিওএইচএস কালচারাল সেন্টার, মিরপুর। চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়— ‘ঢাকা-১২০৬ এর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদি রোডের ৫১২/১০ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত রাজউক অনুমোদিত ৬তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ইজারা প্রদানকারীর মালিকানাধীন এবং তিনি এর আইনগত স্বত্ব ও দখলের অধিকারী।
ঘটনার নেপথ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও, মামলার এজাহারে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি উঠে এসেছে। নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা এ মামলায় অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এই প্রপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর নেপথ্যে থাকা চুক্তিনামা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ৫ হাজার বর্গফুটের ওই শেডটি ভাড়ার চুক্তিতে সালমান মুক্তাদিরের নাম নেই। চুক্তিটি করা হয়েছে তার বন্ধু এসএম রিফাত মেননের নামে। ২০২৫ সালের ১লা নভেম্বর সম্পন্ন এই চুক্তিনামায় দেখা যায়, প্রথম পক্ষ হিসেবে রয়েছেন প্রপার্টিজের মালিক ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। ৪ বছর মেয়াদি এ চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চুক্তিনামা অনুযায়ী, ইজারাগ্রহীতা অর্থাৎ রিফাত মেনন কাউকে উপ-ভাড়া বা সাব-লেট দিতে পারবেন না এবং তৃতীয় পক্ষকে স্থানটি ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারবেন না। অথচ বাস্তবে সেই ৫ হাজার বর্গফুট জায়গায় সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিও গড়ে তোলেন। বিষয়টি নিয়ে সালমান দাবি করেছিলেন, হামলাকারীরা জানত না যে এটি তার স্টুডিও। এদিকে, পল্টন থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার (সিআর নং ৭০৪/২০২৫) নথি বলছে, প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া ওই মামলার ২৪৭ নম্বর আসামি। অভিযোগ রয়েছে, এই আওয়ামী লীগ নেতাকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই বন্ধু রিফাত মেনন ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং সালমান মুক্তাদির বিষয়টি অবগত ছিলেন। সম্পত্তিটির মোট আয়তন ৬ হাজার ৮০০ বর্গফুট। এর মধ্যে ইজারাযোগ্য অংশের (পূর্ব ও উত্তর দিক) আয়তন ৫ হাজার বর্গফুট। ইজারা গ্রহীতা শুধুমাত্র অফিস এবং স্টুডিওর কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ওই সম্পত্তিটি ইজারা নিতে ইচ্ছুক।
ঘটনার দিন সালমান নিজেই গণমাধ্যমে বলেছিলেন, প্রপার্টিজের মালিক আওয়ামী লীগ করায় তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, যা থেকে হামলার সূত্রপাত। তবে সব মিলিয়ে সালমানের সম্পৃক্ততা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বুধবার সালমান মুক্তাদিরের যাবতীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য, গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি এবং লেনদেনের বিবরণী চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ই-মেইল পাঠিয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশি তদন্তের মধ্য দিয়ে বিস্তারিত জানার প্রক্রিয়া চলছে। লুট করা হয় ভবনে থাকা বিভিন্ন অফিস ও আবাসনের মালামাল।
প্রতিনিধির নাম 
























