
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ বাসিন্দাকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে ৫১ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবু সালেহ (৪৭) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার বাসিন্দা এই ব্যক্তিকে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ক্রসভিল শহরের পিভাইন রোডের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লট থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ডব্লিউভিএলটিএইট-এর তথ্যানুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একটি ছদ্মবেশের মাধ্যমে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই ব্যক্তিকে ফোন করে একজন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক ভুক্তভোগী ওই প্রবীণকে বোঝান যে তার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর আপস করা হয়েছে, তার কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে এবং তার ব্যাংকের একজন কর্মী গোপনে সাইবার অপরাধীদের সহযোগিতা করছেন। এরপর প্রতারক ওই ব্যক্তিকে একটি নতুন ল্যাপটপ কিনতে এবং ফোনে থাকা ব্যক্তিকে কম্পিউটারে দূরবর্তীভাবে প্রবেশের (রিমোট অ্যাকসেস) অনুমতি দিতে রাজি করান।
কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ জানানোর পরপরই তদন্ত শুরু হয়। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর টেনেসির ক্লিভল্যান্ডের একটি ওয়ালমার্টে তিনি একজন কুরিয়ারের মাধ্যমে ২৪ হাজার ডলার প্রদান করেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি মোটেলে আরও ২৭ হাজার ডলার হস্তান্তর করেন। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই প্রতারকরা আরও ১৪ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগী শেরিফের কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন।
তদন্তকারী দল প্রতারকদের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে কৌশলে ওই ১৪ হাজার ডলারের একটি ভুয়া প্যাকেটের আয়োজন করে। সালেহ যখন সেই অর্থের প্যাকেটটি সংগ্রহ করতে ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে হাজির হন, তখনই পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরির অভিযোগে তার বন্ড ৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, প্রবীণ ব্যক্তির আর্থিক শোষণের অভিযোগে ২ লাখ ডলার এবং জর্জিয়ার একটি বকেয়া পরোয়ানার জন্য ২০ লাখ ডলারের বন্ড ধার্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই বকেয়া পরোয়ানাটিও অর্থ সংগ্রহের একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সেখানে তিনি ১৪ হাজার ডলার নগদ অর্থের একটি প্যাকেট নিতে গিয়েছিলেন, যেটিকে তিনি আসল অর্থের চালান বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু সেটি ছিল তদন্তকারীদের তৈরি করা একটি ভুয়া প্যাকেট। একই সঙ্গে নিরাপদ একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ সুরক্ষিত রাখার কথা বলে বড় অঙ্কের নগদ টাকা তুলে একজন আসন্ন ‘কুরিয়ারের’ হাতে তুলে দিতে বলা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলে ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তার বিরুদ্ধে একটি ডিটেইনার হোল্ড জারি করে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য তাকে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 
























