
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুরুতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১ অক্টোবর, যখন জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারসহ মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করেন। অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে সেখানে ট্রলি সংকটের জেরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এ সময় লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ও হুমকি দেন। এমনকি নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের পাশাপাশি একজনকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ও পাত্র ছুড়ে ফেলে নষ্ট করার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। পরে তিনি নিরাপত্তা সদস্যদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন এবং একপর্যায়ে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
আদালতে হাজির করার আগে প্রিজনভ্যানে থাকা অবস্থায় আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, নির্যাতন চালিয়ে তাদের আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। জনগণের অধিকার ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে তিনি অবিচল থাকার ঘোষণা দেন। প্রিজনভ্যান থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুলিশ তাকে হেলমেট পরাতে চাইলে তিনি তাতে আপত্তি জানান এবং হেলমেটটি ছুড়ে ফেলে দেন। এ সময় তিনি সরকারের কোনো অবৈধ নির্দেশ মানবেন না বলে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি নতুন করে সংগ্রামে নামার কথা জানান। পরে পুলিশ সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া পরানোর পাশাপাশি মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন। আদালতে ওঠার সময় তাকে বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক আদালতকে জানান, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানির লক্ষ্যেই দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়েও আপত্তি তোলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ঘটনার সঠিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক একদিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
প্রতিনিধির নাম 
























