
পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে সরকার। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জলবায়ু-সহনশীল টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জনগণের জন্য পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী নীতি গ্রহণ করেছে। নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে আবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন এক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ মর্যাদাপূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসন নগরজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
বসবাসযোগ্য শহর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান কৌশলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ বলতে শুধুমাত্র একটি ঘর বোঝায় না, বরং এর সাথে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার নিশ্চয়তাও জড়িত। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর আবাসন এবং বস্তি উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে আলাদা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, কেবল সরকারি উদ্যোগে টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারী, এনজিও, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার বস্তিবাসীদের আবাসনের মালিকানা প্রদান এবং পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। রাজধানীসহ সারা দেশের শহরগুলোতে বিদ্যমান যানজট, আবাসন সংকট ও দূষণের মতো সমস্যাগুলো দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
পরিশেষে, পরিকল্পিত ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়ে তিনি তার বাণীতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার অংশগ্রহণেই একটি বাসযোগ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
প্রতিনিধির নাম 
























