রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই অনুমতি প্রদান করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়ায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মৌলিক একটি পদক্ষেপ। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই বায়রা ক্রিটিক্যালিটির অনুমতি দিয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনুমোদনে কিছুটা দেরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে রাশিয়া থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপে সেই জটিলতার নিরসন করে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

অনুমোদনের পর বর্তমানে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পুরো পরীক্ষা ও প্রস্তুতির এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়কালে চুল্লির বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। পরের ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষদিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রটি প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যায়।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী তালিকায় নিজের নাম লেখাবে। এই মাইলফলকটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন শক্তির উৎস যুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

আপলোডের সময় : 08:52:19 am, Friday, 9 October 2026

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই অনুমতি প্রদান করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়ায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মৌলিক একটি পদক্ষেপ। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই বায়রা ক্রিটিক্যালিটির অনুমতি দিয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনুমোদনে কিছুটা দেরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে রাশিয়া থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপে সেই জটিলতার নিরসন করে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

অনুমোদনের পর বর্তমানে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পুরো পরীক্ষা ও প্রস্তুতির এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়কালে চুল্লির বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। পরের ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষদিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রটি প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যায়।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী তালিকায় নিজের নাম লেখাবে। এই মাইলফলকটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন শক্তির উৎস যুক্ত করার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।