দুই মাসে ১ হাজার নতুন খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ

সারা দেশে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী দুই মাসের মধ্যেই দেশে অন্তত ১ হাজারটি খেলার মাঠ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আওতায় ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার জন্য উপযোগী করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নেই এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে সুজন মাহমুদ জানান, বর্তমানে ২৭টি জেলায় প্রায় ৪০৩টি খাসজমি খেলার মাঠের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠ তিন থেকে আট বিঘা আয়তনের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে স্টেডিয়ামগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো সচল করা, বেদখল হওয়া মাঠগুলো উদ্ধার এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া ও ক্লাব কার্যক্রম চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে একটি ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সারা বছর মাঠগুলোতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

এদিনের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সভায় অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

দুই মাসে ১ হাজার নতুন খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ

আপলোডের সময় : 09:42:20 am, Friday, 9 October 2026

সারা দেশে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী দুই মাসের মধ্যেই দেশে অন্তত ১ হাজারটি খেলার মাঠ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আওতায় ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার জন্য উপযোগী করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নেই এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে সুজন মাহমুদ জানান, বর্তমানে ২৭টি জেলায় প্রায় ৪০৩টি খাসজমি খেলার মাঠের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠ তিন থেকে আট বিঘা আয়তনের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বৈঠকে স্টেডিয়ামগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো সচল করা, বেদখল হওয়া মাঠগুলো উদ্ধার এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া ও ক্লাব কার্যক্রম চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে একটি ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সারা বছর মাঠগুলোতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

এদিনের গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সভায় অংশ নেন।