রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

সৌদি আরবের রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় সৌদিতে অবস্থান করছিলেন।

আক্রান্ত বাংলাদেশিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। এর আগে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ জেদ্দায় প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নাসরুল্লাহ ওমরাহ ভিসায় ট্রানজিটে ছিলেন। সৌদি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহতরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি রিয়াদের ‘সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির’ জেদ্দা প্রজেক্টে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে আসার পর তিনি রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দূতাবাস প্রতিনিধিরা দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন; বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

আহত বাংলাদেশিদের তালিকা ও চিকিৎসাধীন হাসপাতাল

  • কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতাল (আইসিইউ): হাফেজ হাসান (ওমরাহযাত্রী, কামরাঙ্গীরচর), কাজী নুরুল্লাহ (ওমরাহযাত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মো. ওমর ফারুক (প্রবাসী কর্মী)।
  • ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল: সাফফাত রহমান (রাণীনগর, নওগাঁ) ও দাউদুল ইসলাম (নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা)। তারা ওমরাহযাত্রী।
  • রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল: সাইদুল ইসলাম সৌরভ (লালবাগ, ঢাকা) ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (মিরপুর, ঢাকা)। দুজনই ট্রানজিটে ছিলেন।
  • প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল: আব্দুল্লাহ (ওমরাহযাত্রী, ডেমরা, ঢাকা)।
  • সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (তাখাসসুসি): আরমান হোসেন (ওমরাহযাত্রী), মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক (প্রবাসী কর্মী)।
  • কিংডম হাসপাতাল: রফিক মিয়া (প্রবাসী কর্মী)।
  • কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতাল: ইসমাইল হোসাইন ও মিসবাহ উদ্দীন হীরক (ওমরাহযাত্রী), মো. রায়হানুল ইসলাম (প্রবাসী কর্মী)।
  • প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতাল: সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার (পাঁচজনই প্রবাসী কর্মী)।
  • এস্টার সনদ হাসপাতাল: আসাদুল ইসলাম (প্রবাসী কর্মী) ও জামাল (ওমরাহযাত্রী)।
  • সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল: নাজমা আক্তার (ওমরাহযাত্রী)।
  • সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (আলসাহাফা): উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল (ওমরাহযাত্রী)।
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

আপলোডের সময় : 11:36:34 am, Monday, 12 October 2026

সৌদি আরবের রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় সৌদিতে অবস্থান করছিলেন।

আক্রান্ত বাংলাদেশিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। এর আগে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদ জেদ্দায় প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নাসরুল্লাহ ওমরাহ ভিসায় ট্রানজিটে ছিলেন। সৌদি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহতরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি রিয়াদের ‘সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির’ জেদ্দা প্রজেক্টে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে আসার পর তিনি রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দূতাবাস প্রতিনিধিরা দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন; বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

আহত বাংলাদেশিদের তালিকা ও চিকিৎসাধীন হাসপাতাল

  • কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতাল (আইসিইউ): হাফেজ হাসান (ওমরাহযাত্রী, কামরাঙ্গীরচর), কাজী নুরুল্লাহ (ওমরাহযাত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মো. ওমর ফারুক (প্রবাসী কর্মী)।
  • ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল: সাফফাত রহমান (রাণীনগর, নওগাঁ) ও দাউদুল ইসলাম (নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা)। তারা ওমরাহযাত্রী।
  • রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল: সাইদুল ইসলাম সৌরভ (লালবাগ, ঢাকা) ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (মিরপুর, ঢাকা)। দুজনই ট্রানজিটে ছিলেন।
  • প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল: আব্দুল্লাহ (ওমরাহযাত্রী, ডেমরা, ঢাকা)।
  • সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (তাখাসসুসি): আরমান হোসেন (ওমরাহযাত্রী), মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক (প্রবাসী কর্মী)।
  • কিংডম হাসপাতাল: রফিক মিয়া (প্রবাসী কর্মী)।
  • কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতাল: ইসমাইল হোসাইন ও মিসবাহ উদ্দীন হীরক (ওমরাহযাত্রী), মো. রায়হানুল ইসলাম (প্রবাসী কর্মী)।
  • প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতাল: সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার (পাঁচজনই প্রবাসী কর্মী)।
  • এস্টার সনদ হাসপাতাল: আসাদুল ইসলাম (প্রবাসী কর্মী) ও জামাল (ওমরাহযাত্রী)।
  • সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল: নাজমা আক্তার (ওমরাহযাত্রী)।
  • সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (আলসাহাফা): উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল (ওমরাহযাত্রী)।