
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ১০ অক্টোবর সংঘটিত এই হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে আকাশপথের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন যেখানে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা সরগরম থাকে, সেখানে এদিন বহির্গমন টার্মিনাল ছিল প্রায় ফাঁকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে এমন দৃশ্য দেখা যায় বলে জানিয়েছে দৈনিক যুগান্তর। বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরের চিরচেনা ব্যস্ত পরিবেশে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ট্রানজিট ফ্লাইটের সিডিউলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৬১টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় আটকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট ১৭ ও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের খবর আগে থেকে না জানার কারণে অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে রোববার ও সোমবার বহু মানুষ বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বন্ধের তথ্য জানতে পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যান। এখন অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
শ্রীলঙ্কাগামী পর্যটক হাবিবুর রহমান বিমানবন্দরের এমন নির্জন চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অতীতে ভারত, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণের সময় বিমানবন্দরের যে ব্যস্ততা দেখেছেন, এবার তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র লক্ষ্য করছেন। তার সঙ্গী নাসিরও একই কথা বলেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এমন অচলাবস্থা তারা আগে কখনো দেখেননি। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করায় এই ফ্লাইট বাতিল তাদের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। কাতারগামী যাত্রী সোহেল মাহমুদ জানান, পরিচিত কোলাহলপূর্ণ বিমানবন্দর এভাবে ফাঁকা দেখাটা কষ্টের। গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকটের এই প্রভাব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী পরিষেবার ওপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে না পারায় তাঁর খারাপ লাগছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধির নাম 
























