চীনের সঙ্গে ড্রোন তৈরির চুক্তি: ভারতের উদ্বেগের কারণ কী

প্রতিরক্ষা খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়, যা দেশীয় প্রযুক্তিতে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির জন্য মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কারখানা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমদানির পেছনে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। আগামী চারটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এই অর্থের সংস্থান করা হবে। চীনা সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বগুড়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপিতব্য এই কারখানায় মূলত মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এমন ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্যমতে, এই প্রকল্পের ফলে বিদেশ থেকে তৈরি সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। সামরিক নজরদারির পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও এই ড্রোনগুলো ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে সাবমেরিন ও রাডারসহ বিভিন্ন চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন।

তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান কারণ ভৌগোলিক অবস্থান; ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম ড্রোনগুলো সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। একই সঙ্গে, চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নয়াদিল্লি। যদিও বর্তমানে এই ড্রোনগুলো দিয়ে নজরদারি চালানো হবে এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতার আবহ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত সমীকরণে বাংলাদেশ এই ড্রোন প্রকল্পটিকে একটি বড় সক্ষমতা হিসেবে দেখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্পের প্রভাব নির্ভর করবে ড্রোনের প্রকৃত সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তির তথ্য সুরক্ষায় কতটা সফল হয় তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

চীনের সঙ্গে ড্রোন তৈরির চুক্তি: ভারতের উদ্বেগের কারণ কী

আপলোডের সময় : 09:13:15 am, Thursday, 15 October 2026

প্রতিরক্ষা খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির কারখানা স্থাপন করা হবে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়, যা দেশীয় প্রযুক্তিতে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির জন্য মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কারখানা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমদানির পেছনে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। আগামী চারটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এই অর্থের সংস্থান করা হবে। চীনা সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বগুড়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপিতব্য এই কারখানায় মূলত মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এমন ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্যমতে, এই প্রকল্পের ফলে বিদেশ থেকে তৈরি সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। সামরিক নজরদারির পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও এই ড্রোনগুলো ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে সাবমেরিন ও রাডারসহ বিভিন্ন চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন।

তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান কারণ ভৌগোলিক অবস্থান; ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম ড্রোনগুলো সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। একই সঙ্গে, চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নয়াদিল্লি। যদিও বর্তমানে এই ড্রোনগুলো দিয়ে নজরদারি চালানো হবে এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতার আবহ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত সমীকরণে বাংলাদেশ এই ড্রোন প্রকল্পটিকে একটি বড় সক্ষমতা হিসেবে দেখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্পের প্রভাব নির্ভর করবে ড্রোনের প্রকৃত সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তির তথ্য সুরক্ষায় কতটা সফল হয় তার ওপর।