
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন যে, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পাঠচক্র ও বই পড়ার প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনের ওপরও জোর দিতে হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবের বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়েছে।
শীতকালীন উৎসবের পরিকল্পনায় সার্কাস, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরা হয়। সভায় জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এসবের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও অধিকতর সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির যুগে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক বাড়ছে। তবে এর মানে এই নয় যে নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্য ভুলে যেতে হবে। বরং এই ঐতিহ্য কীভাবে আরও কার্যকরভাবে তরুণদের কাছে উপস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেরই দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত দেশ গড়ার সুযোগ আমাদের হাতে আছে। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব।
প্রতিনিধির নাম 
























