
কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনিয়মিতভাবে অবস্থান করছেন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তাদের আত্মগোপনে না থেকে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগটির ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি জটিলতা নেই, তারা সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আবেদনকারী প্রবাসীদের পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদে তাদের স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক স্থান নয় বরং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি সাময়িক আবাসস্থল উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে অবস্থানকালে প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত খাবার এবং নিজ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া জটিল কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেসিডেন্সি সংক্রান্ত বিভিন্ন সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।
ভিসা আইন লঙ্ঘন এবং অবৈধ ভিসা বা ‘ফ্রি ভিসা’ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেজর আল-বুরাইদি। তিনি জানান, অবৈধ ভিসা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া কোনো স্পন্সর বা নিয়োগকর্তা কর্মীর আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিটির বিপরীতে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল। একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।
অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কোথাও কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কাতার কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আইনি অভিযান পরিচালনা করছে বলে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রবাসীদের এসব বিষয়ে সচেতন থেকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বিভাগ।
প্রতিনিধির নাম 
























