
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতায় বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। একসময় যাত্রী ও স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়ে যে টার্মিনাল এলাকা সবসময় সরগরম থাকতো, বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক নীরবতা। আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল, গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল এলাকা এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনুপস্থিতিতে বিমানবন্দরের পুরো পরিবেশ যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
রবিবার ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বহির্গমন ও আগমনী উভয় টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের উপস্থিতি নগণ্য। আগে যেখানে স্বজনদের নিতে আসা গাড়ির প্রচণ্ড চাপ ও পার্কিংয়ে জায়গার সংকট থাকতো, এখন সেখানে অনেকটা নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ। বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্বরত এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, যাত্রী ও তাদের স্বজনদের আগের সেই ভিড় এখন আর নেই। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তবেই হয়তো আবার আগের মতো স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসবে।
প্রবাসীদের স্বজনদের মধ্যেও এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি, যিনি দুবাইফেরত ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন, তিনি জানান, আগেও তিনি বেশ কয়েকবার বিমানবন্দরে এসেছেন তবে এমন ফাঁকা পরিবেশ এর আগে কখনো দেখেননি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন। দুই মাস আগের ব্যস্ত বিমানবন্দরের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বিশাল পার্থক্য তার চোখে পড়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা এখন কাজের চাপে কিছুটা ছাড় পাচ্ছেন, যদিও এই অস্বাভাবিক নীরবতা তাদের কাছেও অস্বস্তিকর।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ফ্লাইট স্থগিতাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় প্রবাসীদের দেশে আসা ও বহির্গমন দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এই আট দিনের সংকটে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং এর ফলে ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন। এছাড়া সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে না পেরে আরও হাজারো প্রবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রতিনিধির নাম 
























