সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নতুন নীতিমালা

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে একটি নতুন বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থী প্রতি ক্লাস্টারের যেকোনো ১টি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুলের কোনো শ্রেণির কোনো একক শাখায় ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী কোনোভাবেই ভর্তি করা যাবে না।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে বয়স, ফি, আবেদন পদ্ধতি ও কোটা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভর্তির বয়সসীমা ও শিক্ষাবর্ষ

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুসরণে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ন্যূনতম বয়স ৬+ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫ বছরের নমনীয়তা বা ছাড় প্রদানের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সময়সীমা ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণনীয় হবে।

আবেদন ও ভর্তি প্রক্রিয়া

১ম শ্রেণিতে ভর্তি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এই শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। লটারিতে আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি পছন্দক্রমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করার সুবিধা পাবে। ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অন্যান্য মূল প্রশাসনিক ধাপগুলো হলো লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

  1. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠানের কারিগরি প্রতিষ্ঠান সাহায্যে আবেদন ও ডিজিটাল লটারির ফলাফল প্রকাশের যাবতীয় তথ্য ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র নিকট প্রদান করবে।
  2. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র সদস্যদের উপস্থিতিতে ১ম শ্রেণির জন্য লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
  3. সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র নিকট থেকে প্রাপ্ত নির্বাচিতদের তালিকা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে এবং নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিবে। কোনো অবস্থাতেই নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।

লিখিত পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্রের মানবন্টন

২য় থেকে ৯ম শ্রেণির শূন্য আসনে ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হবে এবং অর্জিত মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন সম্পর্কে নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে এবং এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই হতে প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিত করার ওপর জোড় তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার মানবন্টন নিম্নরূপ

  • ২য় থেকে ৫ম শ্রেণিমোট পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরীক্ষার সময়সীমা ১ ঘণ্টা।
  • ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিমোট পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ২ ঘণ্টা।

আবেদন ফি ও ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ

অনলাইনে ১ম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ (একশত দশ) টাকা এবং ২য় থেকে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা ফি গ্রহণ করা যাবে।

ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে ভগ্নাংশ হলে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যা গণনা করতে হবে।

এ ছাড়া ভর্তি কমিটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নীতিমালার তথ্য সম্পর্কিত ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২য় থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে বিদ্যালয়গুলোকে ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হতে পারে।

সংরক্ষিত আসন ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কোটা ও সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে। এর ব্যত্যয় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

  1. ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ আসন স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
  2. ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত দেবে।
  3. মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।
  4. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকার শর্তে ভর্তির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন দাখিল করতে হবে। উক্ত আসনে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে তা সাধারণ তালিকার মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
  5. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে ১ শতাংশসহ মোট ২ শতাংশ আসন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রত্যয়নপত্র ও ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে।
  6. কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর/সহোদরা যদি পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা যেসব যমজ ভাই/বোন নতুন আবেদন করবে, তাদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে সহোদর/সহোদরার আবেদন পাওয়া না গেলে উক্ত ৩ শতাংশ আসন যমজ ভাই/বোনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  7. কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই/বোন যদি পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা যে সব যমজ ভাই/বোন নতুন আবেদন করবে, তাদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে যমজ ভাই/বোন আবেদন পাওয়া না গেলে উক্ত ২ শতাংশ আসন সহোদর/সহোদরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  8. মাধ্যমিকে ভর্তির বিস্তারিত ও পুরো নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সাধারণের দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নতুন নীতিমালা

আপলোডের সময় : 11:20:00 am, Monday, 19 October 2026

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে একটি নতুন বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থী প্রতি ক্লাস্টারের যেকোনো ১টি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুলের কোনো শ্রেণির কোনো একক শাখায় ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী কোনোভাবেই ভর্তি করা যাবে না।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে বয়স, ফি, আবেদন পদ্ধতি ও কোটা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভর্তির বয়সসীমা ও শিক্ষাবর্ষ

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুসরণে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ন্যূনতম বয়স ৬+ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫ বছরের নমনীয়তা বা ছাড় প্রদানের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সময়সীমা ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণনীয় হবে।

আবেদন ও ভর্তি প্রক্রিয়া

১ম শ্রেণিতে ভর্তি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এই শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। লটারিতে আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি পছন্দক্রমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করার সুবিধা পাবে। ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অন্যান্য মূল প্রশাসনিক ধাপগুলো হলো লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

  1. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠানের কারিগরি প্রতিষ্ঠান সাহায্যে আবেদন ও ডিজিটাল লটারির ফলাফল প্রকাশের যাবতীয় তথ্য ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র নিকট প্রদান করবে।
  2. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র সদস্যদের উপস্থিতিতে ১ম শ্রেণির জন্য লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
  3. সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটি’র নিকট থেকে প্রাপ্ত নির্বাচিতদের তালিকা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে এবং নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিবে। কোনো অবস্থাতেই নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।

লিখিত পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্রের মানবন্টন

২য় থেকে ৯ম শ্রেণির শূন্য আসনে ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হবে এবং অর্জিত মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন সম্পর্কে নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে এবং এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই হতে প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিত করার ওপর জোড় তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার মানবন্টন নিম্নরূপ

  • ২য় থেকে ৫ম শ্রেণিমোট পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরীক্ষার সময়সীমা ১ ঘণ্টা।
  • ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিমোট পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ২ ঘণ্টা।

আবেদন ফি ও ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ

অনলাইনে ১ম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ১১০ (একশত দশ) টাকা এবং ২য় থেকে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা ফি গ্রহণ করা যাবে।

ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে ভগ্নাংশ হলে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যা গণনা করতে হবে।

এ ছাড়া ভর্তি কমিটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, নিজস্ব ওয়েবসাইট ইত্যাদিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নীতিমালার তথ্য সম্পর্কিত ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২য় থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে বিদ্যালয়গুলোকে ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হতে পারে।

সংরক্ষিত আসন ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কোটা ও সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে। এর ব্যত্যয় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

  1. ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ আসন স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
  2. ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত দেবে।
  3. মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।
  4. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকার শর্তে ভর্তির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন দাখিল করতে হবে। উক্ত আসনে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে তা সাধারণ তালিকার মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
  5. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে ১ শতাংশসহ মোট ২ শতাংশ আসন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রত্যয়নপত্র ও ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে।
  6. কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সহোদর/সহোদরা যদি পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা যেসব যমজ ভাই/বোন নতুন আবেদন করবে, তাদের জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে সহোদর/সহোদরার আবেদন পাওয়া না গেলে উক্ত ৩ শতাংশ আসন যমজ ভাই/বোনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  7. কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাই/বোন যদি পূর্ব থেকে অধ্যয়নরত থাকে অথবা যে সব যমজ ভাই/বোন নতুন আবেদন করবে, তাদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে যমজ ভাই/বোন আবেদন পাওয়া না গেলে উক্ত ২ শতাংশ আসন সহোদর/সহোদরার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  8. মাধ্যমিকে ভর্তির বিস্তারিত ও পুরো নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সাধারণের দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।