
দেশের সকল কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বা নিপীড়ন রোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে ছয়টি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন অথবা বিদ্যমান কমিটি সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়, যা শনিবার (২৪ অক্টোবর) হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। স্কুল, মাদরাসা এমনকি অন্যান্য পরিসরেও সমস্যাটি কমবেশি বিদ্যমান।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রেরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি মাদরাসা বোর্ডকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সব সময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের যেকোনো অভিযোগ প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে জরুরি। তারা আরও বলেন, এটি একটি পুরোনো সামাজিক সমস্যা যা কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব ধরণেই এমন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস চলবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি নেই, নিষ্ক্রিয় রয়েছে অথবা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল পর্যন্ত করা হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার এবং কঠোর নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হেফাজত নেতৃবৃন্দ আরও সতর্ক করেন যে, নিয়ম অমান্যকারী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আগামীর ভবিষ্যৎ শিশু শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নীতিমালা মেনে চলতে হবে, যেখানে কোনো ধরণের আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই।
প্রতিনিধির নাম 

























