যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসালের বার্ষিক সম্মেলনে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ডাক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (অ্যাসাল)-এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭-এর সদর দপ্তরে দিনব্যাপী এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূলধারার জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতারা দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও স্বার্থ সংরক্ষণে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী তরুণদের শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সচেতনতা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন (৪২-এর পাতার পর) ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও জনজীবনে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা এবং সিটির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। সম্মেলনে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

দিনব্যাপী আয়োজনে বেশ কয়েকটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘ব্রেকিং সাইলেন্স: সাউথ এশিয়ান উইমেন কনফ্রন্ট ডমেস্টিক ভায়োলেন্স’ শীর্ষক আলোচনায় দক্ষিণ এশীয় নারীদের ওপর পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে কথা বলেন আলোচকরা। এ ছাড়া মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে করণীয় নির্ধারণে পৃথক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কনভেনশনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য শেখর কৃষ্ণান এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার বক্তব্য দেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস মাফ মিসবাহ উদ্দিন সংগঠনের ১৮ বছরের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যক্রম ও লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাসালের জাতীয় সভাপতি মোহাম্মদ করিম চৌধুরী। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ। মূল বক্তা হিসেবে নাম ছিল নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিনসের। এই পর্বের ঘোষিত আলোচকদের মধ্যে ছিলেন সাউথ কুইন্স উইমেন্স মার্চের প্রতিষ্ঠাতা অমিতা কিলাওয়ান ও কমিউনিটি অধিকারকর্মী উমা খান। ‘সাউথ এশিয়ানস রাইজিং ইন মেইনস্ট্রিম পলিটিকস’ শীর্ষক অধিবেশনে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক সংগঠক ও নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ। সম্মেলনে শ্রমিক ও কমিউনিটি নেতাদের জন্য একটি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিস্ময়বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। অল্প বয়সে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পরিচিতি পাওয়া সুবর্ণ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন।

অ্যাসালের জাতীয় সভাপতি মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, জাতীয় সেক্রেটারি হরজিৎ সিং মিনহাস এবং প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিসবাহ উদ্দিনের সার্বিক পরিচালনায় পুরো আয়োজনটির সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জাতীয় নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জামিলা এ.। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষ ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাওয়া এই সংগঠনের সম্মেলনটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার দৃপ্ত আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমাদের ভোট, আমাদের কণ্ঠ, আমাদের শক্তি, আমরাই গড়ে তুলব পরিবর্তন’। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। বিভিন্ন পেশা, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও সেবামূলক খাতে তাঁদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসালের বার্ষিক সম্মেলনে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ডাক

আপলোডের সময় : 09:11:09 am, Thursday, 22 October 2026

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে বাংলাদেশি আমেরিকানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (অ্যাসাল)-এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭-এর সদর দপ্তরে দিনব্যাপী এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূলধারার জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতারা দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও স্বার্থ সংরক্ষণে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী তরুণদের শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সচেতনতা, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন (৪২-এর পাতার পর) ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও জনজীবনে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা এবং সিটির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। সম্মেলনে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

দিনব্যাপী আয়োজনে বেশ কয়েকটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘ব্রেকিং সাইলেন্স: সাউথ এশিয়ান উইমেন কনফ্রন্ট ডমেস্টিক ভায়োলেন্স’ শীর্ষক আলোচনায় দক্ষিণ এশীয় নারীদের ওপর পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে কথা বলেন আলোচকরা। এ ছাড়া মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি বাড়ানো এবং ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে করণীয় নির্ধারণে পৃথক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কনভেনশনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য শেখর কৃষ্ণান এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার বক্তব্য দেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস মাফ মিসবাহ উদ্দিন সংগঠনের ১৮ বছরের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যক্রম ও লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাসালের জাতীয় সভাপতি মোহাম্মদ করিম চৌধুরী। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ। মূল বক্তা হিসেবে নাম ছিল নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিনসের। এই পর্বের ঘোষিত আলোচকদের মধ্যে ছিলেন সাউথ কুইন্স উইমেন্স মার্চের প্রতিষ্ঠাতা অমিতা কিলাওয়ান ও কমিউনিটি অধিকারকর্মী উমা খান। ‘সাউথ এশিয়ানস রাইজিং ইন মেইনস্ট্রিম পলিটিকস’ শীর্ষক অধিবেশনে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক সংগঠক ও নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ। সম্মেলনে শ্রমিক ও কমিউনিটি নেতাদের জন্য একটি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিস্ময়বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। অল্প বয়সে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পরিচিতি পাওয়া সুবর্ণ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন।

অ্যাসালের জাতীয় সভাপতি মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, জাতীয় সেক্রেটারি হরজিৎ সিং মিনহাস এবং প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিসবাহ উদ্দিনের সার্বিক পরিচালনায় পুরো আয়োজনটির সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জাতীয় নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জামিলা এ.। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষ ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাওয়া এই সংগঠনের সম্মেলনটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার দৃপ্ত আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমাদের ভোট, আমাদের কণ্ঠ, আমাদের শক্তি, আমরাই গড়ে তুলব পরিবর্তন’। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। বিভিন্ন পেশা, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও সেবামূলক খাতে তাঁদের অবদান উল্লেখযোগ্য।