
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের এক সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারদ স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন।
চূড়ান্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কতটি দলিল সই হবে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’’। সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
সফর ও আলোচনার মূল লক্ষ্যসমূহ
- প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ: দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো গঠন।
- কৌশলগত অংশীদারত্ব: অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারত্বকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া।
- জ্বালানি নিরাপত্তা: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতা।
- রোহিঙ্গা সংকট: সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
- আধুনিক খাত: নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
- বাণিজ্যিক সম্পর্ক: জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময়।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, আলোচনা শুধু মেট্রোরেলের মতো অবকাঠামো প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সব দেশ থেকেই সুলভ সুদে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। সফর শেষে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারত্বের রূপরেখা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। জাপান বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এই সফরকে জাপানের সঙ্গে অংশীদারত্বে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটাবে।
অধ্যাপক চৌধুরী কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটিয়ে কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উচিত।
জাপানি বিনিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক চৌধুরী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এতে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এছাড়া বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের অংশীদারত্ব উৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি সফর শেষে একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
সফরের অংশ হিসেবে তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগ, জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটি, জাইকা প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি গভর্নর, জেট্রো চেয়ারম্যান এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবে।
এছাড়া চিবা অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও সফরের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- তিনি বলেন, ‘‘প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কার্যকর ব্যবসায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।’’।
- সূত্র: বাসস।
প্রতিনিধির নাম 
























